‘এনআরসি যে ওয়েস্টপেপার হবে তা আগেই বলেছিলাম’, দাবি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের

গুয়াহাটি, ২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : জাতীয় নাগরিকপঞ্জির সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকাটি মনঃপূত হয়নি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈয়ের। তাই তিনি বলেছেন, “এনআরসি যে ওয়েস্টপেপারে পরিণত হবে তা আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি।” সোমবার দিশপুরে মিনিস্টার্স কলোনিতে তাঁর সরকারি আবাসে বসে হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় এনআরসি সম্পর্কে এভাবেই তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গগৈ। 

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক তরুণ গগৈ বলেন, “এনআরসি-র যে তালিকা গত শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। বিদেশি চিহ্নিতকরণ বা বিদেশি বহিষ্কারের নামে জলে ফেলা হয়েছে কোটি কোটি টাকা।” এক জিজ্ঞাসার জবাব দিতে গিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় বলেন, “এনআরসি-র রি-ভেরিফিকেশনের কোনও মানে নেই, আমি অন্তত মনে করি না, এতে কোনও লাভ হবে। তাই আমি পুনর্যাচাইয়ের ঘোর বিরোধী। এতে কেবল মানুষের হয়রানিই হবে আর কিছু নষ়।” বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

তরুণ গগৈ বলেন, বিদেশি খেদাও হল বিজেপি ও অগপ-র মূল অ্যাজেন্ডা, এই ইস্যু ছাড়া তাদের রাজনৈতিক ক্ষেত্র অন্ধকার। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন তিনি। বলেন, “মোদী বলছেন তরুণ গগৈ বাংলাদেশি বিদেশিদের লাল কার্পেট পেতে ভারত তথা অসমে এনেছেন। কিন্তু সেই মোদী-তো বিদেশি খেদানো দূর, শুদ্ধ ত্রুটিহীন এনআরসিই তৈরি করতে পারলেন না। তা-হলে আমার বিরুদ্ধে এ-সব অবান্তর অভিযোগ তোলার মানে কী?” তাঁর অভিযোগ, এনআরসি আরেক নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এর জন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে দোষারোপ করেছেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি সরকার, কোনও গুরুত্বই দেয়নি, তা-হলে এখন “মায়াকান্নার কোনও অর্থ নেই”, বলেন, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গগৈ।

“কংগ্ৰেস আমলে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ বিদেশিকে রক্ষণাবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষমতাসীন জোট শরিক বিজেপি ও অগপ অপপ্ৰচার চালিয়ে আসছিল। এবার তা-হলে এই সব বিদেশি কোথায় গেল? বেরোলো না কেন বিদেশি?” কটাক্ষ করে অগপ আমলের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্ৰী তথা বিদেশি বিতাড়ন আন্দোলনের অন্যতম নেতা প্ৰফুল্লকুমার মহন্তকেও ছাড়েননি তরুণ। বলেন, “যে মহন্ত ৫০ লক্ষ বিদেশির কথা বলে ৪০ বছর আগে অসম আন্দোলন করেছিলেন, সেই একই মহন্ত এবার ১৯ লক্ষ বিদেশি (এনআরসি-ছুট)-র তালিকা দেখে সন্তুষ্টি প্ৰকাশ করেছেন! তার মানে কী দাঁড়ালো, মহন্ত মিথ্যাবাদি, ভাঁতাবাজ?” গগৈয়ের দাবি, অগপও অসমের বিদেশি সমস্যার সমাধান চায় না, তাই এনআরসি-র কাজ প্ৰফুল্ল মহন্তের আমলে শুরুই করা হয়নি।