নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ জুলাই ৷৷ বিদ্যালয়ে সংগঠন করা যাবে না৷ কড়া ভাষায় সতর্ক করলেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর সাফ কথা, বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রধান কর্তব্য৷ তার বদলে, রাজনৈতিক গতিবিধি কোনভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার৷ সাথে তিনি যোগ করেন, শাসকদলের নেতা পরিচয়ে চাঁদা সংগ্রহ কিংবা বদলির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কাজে যুক্তদের চিহ্ণিত করা হচ্ছে৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শাসক সমর্থক পরিচয়ে সাংগঠনিক গতিবিধি পুরনো কায়দায় শুরু হয়েছে৷ তাতে, অসন্তোষ বাড়ছে তা উপলব্ধি হয়েছে রাজ্য সরকারের৷ তাই, বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে সাংগঠনিক গতিবিধির সাথে যুক্ত শিক্ষকদের সতর্ক করলেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ বুধবার তিনি আগরতলায় বোধজং বয়েজ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আচমকা পরিদর্শনে যান৷ মূলত, তাঁর বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, সাংগঠনিক কাজকর্মের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের সতর্ক করা৷
আজ তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে সাংগঠনিক গতিবিধির অভিযোগ মিলেছে৷ তাতে, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, বিদ্যালয়ে কোন সংগঠন করা যাবে না৷ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, তা পালনে কোন গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না৷
শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, বিদ্যালয়ে একাংশ শিক্ষক শাসক দলের নেতা-সমর্থক পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন৷ বামফ্রন্ট জমানায় যে কায়দায় চাঁদা সংগ্রহ করা হতো, ঠিক একইভাবে এখনও তা চলছে৷ শুধু রঙ পাল্টেছে, কটাক্ষের সুরে বলেন তিনি৷ তাঁর দাবি, একসময়ের দাপুটে হগব নেতা এখন বিজেপি সেজে বদলীর নামে মোটা টাকা সংগ্রহ করছেন৷ তাঁদের সকলের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, জানান শিক্ষামন্ত্রী৷
তিনি বলেন, আজ দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বুঝেছি, শিক্ষার পরিবেশ ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ সে-ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরই দায়িত্ব পালন করতে হবে৷ কারণ, মেলাঘর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পেরেছি, সেখানে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার ৯৯ শতাংশ৷ তাই, ওই বিদ্যালয়ে পাশের হার প্রশংসনীয়৷ শিক্ষামন্ত্রী এদিন সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি আবেদন রাখেন, বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক গতিবিধি থেকে বিরত থাকুন৷



















