গুয়াহাটিতে মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাত, হত এক, আটক দুই কিশোরী-সহ চার মহিলা

গুয়াহাটি, ৩ জুলাই (হি.স.) : বসতঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে চার মহিলা ঘাটক। ঘটনা মঙ্গলবার রাতে গুয়াহাটি মহানগরের পাঞ্জাবাড়ির গণেশমন্দির সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। চুরিকাহত দুই মহিলাকে সঙ্গে সঙ্গে দিশপুর জিএনআরসি হাসপাতালে নিয়ে ভরতি করা হয়। কিন্তু প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আঘাতপ্রাপ্ত মা উর্বশী কৈবর্তের জীবনাবসান ঘটেছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মেয়ে থাপনা কৈবর্ত। ইতিমধ্যে মৃত্যুর আগে প্রদত্ত জবানবন্দির ভিত্তিতে দুই মহিলাকে আটক করেছে সাতগাঁও পুলিশ। পরবর্তীতে ধৃতদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আরও দুই মহিলাকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দুই কিশোরীও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে ধারণা করছেন তাঁরা, জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার দীপক কুমার। 

পুলিশ কমিশনার বুধবার তাঁর দফতরে বসে হিন্দুস্থান সমাচার-কে জানান, গতকাল রাত প্রায় ৯:৩০টা নাগাদ দুৰ্বৃত্তের এক দল উর্বশী দেবীর বসতঘরে ঢুকে আচমকা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মা ও মেয়ে থাপনাকে। প্রতিবেশীরা তাঁদের আর্ত চিৎকারে ছুটে এসে রক্তাক্ত দুজনকে নিয়ে যান দিশপুর জিএনআরসিতে। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মা উর্বশী কৈবর্ত। তাঁর মেয়ে থাপনার শারীরিক অবস্থা অতি সংকটজনক বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান দীপক কুমার।

তিনি জানান, ঘটনা সংক্রান্ত এক মামলা নিয়েছে সাতগাঁও পুলিশ। গৃহিণী তথা নিহত উর্বশী কৈবর্ত মৃত্যুর আগে প্রতিবেশীদের কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছেন সে অনুযায়ী প্রথমে দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। উর্বশী দেবী একটি পানের দোকান চালান। বছর কয়েক আগে তাঁর স্বামী প্রয়াত হয়েছেন। এর পর মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার চালাতে স্বামীর ব্যবসায় লেগে যান তিনি। ইত্যবসরে কে বা কারা তাঁর কাছে দশ লক্ষ টাকা দাবি করছিল। দাবির টাকা না দেওয়ায় এভাবে তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানান, এর আগে শোনা গিয়েছিল, তিনি কারোর কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে এবার প্রেমঘটিত এক কাহিনির তথ্য আসছে বলেও জানান তিনি। তবে কোন তথ্য সঠিক তা তদন্ত সাপেক্ষ, মনে করেন পুলিশের পদস্থ আধিকারিকটি। 
পুলিশ কমিশনার জানান, গতকাল রাতে উর্বশী কৈবর্ত ও তাঁর মেয়ের ওপর হামলাকারী একাধিক ছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে দুই পরিবারের মা ও মেয়েও জড়িত আছে। তবে আসলে কী কারণে এই লোমহর্ষক খুনের ঘটনা সংগঠিত করা হয়েছে তা এখনও তাঁদের কাছে অস্পষ্ট। শীঘ্র এর জট ঘুলবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পুলিশ কমিশনার দীপক কুমার। ধৃত দুই মহিলাকে প্রণতি দাস ও সাবিত্রী রায় বলে পরিচয় পাওযা গেছে। অন্য দুজন নাবালিকা।