ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাই চেষ্টার সময় নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-এর অপরাধী বিভাগের পুরোনো তথ্য থেকে তার পরিচয় জানা যায়। সোমবার সকালে র্যাবের পাঠানো একটি বার্তায় জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ পলাশ আহমেদ। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও-এর পিরিজপুরের দুধঘাটায়। বিমানের যাত্রী তালিকা অনুযাযী, তিনি বিজি-১৪৭ ফ্লাইটের ঢাকা- চট্টগ্রামের যাত্রী ছিলেন। বিমানে অবশ্য সে নিজেকে ‘মাহাদী’ বলে পরিচয় দেয়।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ‘ময়ুরপঙ্খী’-র সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাঈম হাসান জানিয়েছেন, \”বিমান ‘ছিনতাই চেষ্টাকারী’ তার স্ত্রীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল।\” বিমানের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, \”ছিনতাইকারী ‘মাহাদী’ তার স্ত্রী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য দাবি জানায়। তবে ছিনতাইকারী কোনও যাত্রী বা ক্রুকে পণবন্দি করেনি।\” তিনি জানান, \”বিমান ছিনতাইকারী মাহাদীর কাছে একটি পিস্তল ছিল এবং শরীরে বোমাসদৃশ তার জড়ানো ছিল। বিমানটি বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। মাহাদীকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে।\” এয়ার ভাইস মার্শাল নাঈম বলেন, \”ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী ও র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে কমান্ডো অভিযান শুরু হয়ে ৭ টা ২৫ মিনিটে শেষ হয়। এরপর বিমান থেকে আহত অবস্থায় ছিনতাইকারীকে সরিয়ে আনা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ‘ময়ুরপঙ্খী’ নামে বাংলাদেশ বিমানের ওই উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। মাহাদীর নামার কথা ছিল চট্টগ্রামে।\”অন্যদিকে, এদিন দুপুরে মাহাদীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে ‘মাহাদী’র বাবা মুদি দোকানদার পিয়ার জাহান জানান, \”মাহাদী, ‘পলাশ’ নামে গ্রামে পরিচিত ছিল। পলাশ সোনারগাঁয়ের তাহেরপুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। এরপর সে আর পড়াশোনা করেনি। গত শুক্রবার পলাশ আমাকে জানায় যে, সে আর বাংলাদেশে থাকবে না। দুবাই চলে যাবে। এ কারণে সে আমার কাছ থেকে ৫০০ দিরহাম দাবি করে এয়ারপোর্টে দেখানোর জন্য। আমি সেই পরিমাণ টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলাম।\” পিয়ার ব্যথিত কন্ঠে জানান, \”পলাশ তাঁদের অবাধ্য সন্তান। এর আগেও বিদেশে যাওয়ার কথা বলে সে অনেক টাকা নষ্ট করেছে।
যে কারণে ছেলের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতাম না। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পলাশ ছোট। একমাত্র ছেলে হওয়ায় যা চাইতো তাই দেওয়ার চেষ্টা করতাম।\” তিনি আরও জানান, \”১০ মাস আগে অভিনেত্রী সিমলাকে নিয়ে পলাশ বাড়ি আসে। তখন সে জানায় সিমলাকে নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছে। কিন্তু দেড় থেকে দুই মাস পর লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি তাদের বিয়ে হয়েছে। এর ঠিক দেড় থেকে দুই মাস পরে পলাশ আবারও সিমলাকে নিয়ে বাড়ি আসে। তখন জানায়, সিমলাকে সে বিয়ে করেছে। প্রথমে না মানলেও পরবর্তীতে বিয়ে মেনে নি এবং বউকে (সিমলা) বলি ছেলেকে ভালো করে তুলতে। এরপর পলাশের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হত না।\” পিয়ার জাহান আরও জানালেন, \”এর আগে পলাশ আরেকটি বিয়ে করে বগুড়াতে। তার একটি বাচ্চাও আছে। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এছাড়া, এর আগে এলাকায় অপরাধমূলক একটি ঘটনায় মামলাও হয়েছিল পলাশের নামে। সেই মামলায় ২০ দিন জেল খেটে সে জামিন পেয়েছিল। এই খবর পাঠানো পর্যন্ত সিমলার কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।\”