নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ ফেব্রুয়ারি৷৷ সমৃদ্ধ থেকে ক্ষুদ্র সকল ভাষাকেই সমান গুরুত্ব ও শ্রদ্ধা করতে হবে৷ মাতৃভাষা মাতৃদুগ্দের সমান৷ আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদ্বোধন করে রাজস্ব ও মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা এ কথাগুলো বলেন৷ বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর এবং আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজস্ব মন্ত্রী শ্রীদেববর্মা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন এবং স্বীকৃতিলাভের জন্য বাংলাদেশ এবং ভারতবর্ষের পূর্বভাগের মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি৷ ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট্ট ত্রিপুরাতেও ককবরক ভাষার সংবিধানিক স্বীকৃতি লাভের আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন ধনঞ্জয় ত্রিপুরা ও মোহিনী ত্রিপুরা৷ তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুগে প্রত্যেকেরই মাতৃভাষা ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষ হওয়া প্রয়োজন৷ তাতেই সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ ঘটবে৷

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ নেলশন ম্যাণ্ডেলার উক্তিকে উদ্বৃত করে বলেন, কারও সাথে যদি অন্য ভাষায় কথা বলি সেই কথা তার মাথায় যায় এবং তার সাথে যদি মাতৃভাষায় কথা বলি সেই কথা তার মনে যায়৷ তিনি বলেন, মানুষ যে ভাষায় শিশু কাল থেকে কথা বলে, স্বপ্ণ দেখে, মনের ভাব প্রকাশ করে, সে ভাষার প্রতি মানুষের দুর্বলতা থাকা স্বাভাবিক৷ শিলচর, তামিলনাডু ও ত্রিপুরাতেও মানুষ ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন৷ বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ নেয়৷ পরবর্তীতে ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ ইং-এ ১৮৮টি দেশের সম্মতিক্রমে ইউনেস্কো মাতৃভাষা দিবসকে স্বীকৃতি প্রদান করেছে৷ তিনি আরও বলেন, রাজ্যের প্রতিটি ভাষার বিকাশ রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য৷ তার জন্য পৃথক একটি দপ্তর খোলা হয়েছে৷ রাজ্যে বর্তমানে বাংলা, ককবরক ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন ভাষাতেও শিক্ষাগ্রহনের সুুযোগ রয়েছে৷ এক্ষেত্রে সময়ে সময়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপও গৃহীত হচ্ছে৷
রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আগরতলা বাংলাদেশের সহকারি হাই কমিশনার কিরিটি চাকমা ও বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবর রহমান খান ম’তি জাদুঘরের কিউরেটর মহঃ নজরুল ইসলাম খান৷ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বুনিয়াদি শিক্ষা, মধ্যশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা অধিকার দপ্তরের অধিকর্তা উত্তম কুমার চাকমা৷ উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শুরুর প্রথম পর্বে রাজ্যের ৪৮টি বিদ্যালয় ও ৬টি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উমাকান্ত একাডেমী প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে এসে মিলিত হয়৷ যেখানে অতিথিগণ শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা’াপন করেন৷ অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ১০টি বিদ্যালয়, ২টি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি ঢাকাস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীরাও সাংস্ক’তিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন৷