নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারী৷৷ ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সমানতালে চলছে হরির লুট৷ বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড এবং ডাইরী ছাপিয়ে প্রচুর টাকা লুটপাটের চেষ্টা চলছে৷ অন্তত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন আধিকারীকের গতিবিধি দেখে এমনটাই মনে করা হচ্ছে৷ সূত্রের খবর, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড তৈরির জন্য উপাচার্যের কাছে ১০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করার জন্য রিপোর্ট দিয়েছেন জনৈক আধিকারীক ইউ কে দাস৷ মোট ৫০০ রিপোর্ট কার্ড ছাপাতে এই টাকা খরচ হবে বলে তিনি রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন৷ কিন্তু, উপাচার্য্য ভি এল ধারুরকর ৫০০’এর বদলে ২৫০টি রিপোর্ট কার্ড ছাপাতে বলেন৷ খরচ কম হবে, এই চিন্তা থেকেই উপাচার্য্য এই নির্দেশ দেন৷

সূত্রের খবর, উপাচার্য ১০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর না করায় এনিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়৷ কিন্তু, কমিটির প্রধান বারিণ দে উপাচার্য্যের কাছে প্রস্তাব দেন, ২৫০টি রিপোর্ট কার্ড ছাপানো যেতেই পারে কিন্তু, বাজেট কমানো যাবে না৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ণ উঠেছে, ৫০০’র বদলে ২৫০টি রিপোর্ট কার্ড ছাপাতে ১০ লক্ষ টাকা কেন প্রয়োজন৷ রিপোর্ট কার্ডের সংখ্যা কমলেও খরচের পরিমান কেন কমবে না, সেই প্রশ্ণের কোন জবাব এখনো মিলেনি৷
এদিকে, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে ডায়েরি ছাপানো হয়েছে৷ এখন উপাচার্য্যকে চাপ দেওয়া হচ্ছে, ডায়েরি ছাপানোর খরচের অর্থ মঞ্জুর করার জন্য৷ সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অশেষ গুপ্ত কোন অনুমোদন ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপিয়েছেন৷ তাতে খরচ হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা, তা তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়েছেন৷ কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কিভাবে বিরাট অংকের টাকার ডায়েরি ছাপানো হয়েছে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ণ উঠেছে৷ সূত্রের খবর, উপাচার্য্য ডায়েরি ছাপানোর খরচের অর্থ মঞ্জুরি দিচ্ছেন না৷ কিন্তু, প্রফেসর গুপ্ত ক্রমাগত উপাচার্যকে ছাপ দিচ্ছেন ওই অর্থ মঞ্জুর করার জন্য৷
তাতে একটা বিষয়ে স্পষ্ট, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সমান তালেই চলছে হরির লুট৷