নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ ফেব্রুয়ারি৷৷ আমাদের দেশ ভারতবর্ষ একটি মাতৃতান্ত্রিক দেশ৷ দেশকে শক্তিশালী করতে হলে দেশের মহিলাদের সশক্তিকরণ করতে হবে৷ আমাদের দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের শাসনভার গ্রহণ করে এখন পর্যন্ত যতগুলি যোজনা চালু করেছেন তাতে মহিলাদেরই সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে৷ আজ আগরতলা টাউন হলে আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে এবং দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-ন্যাশনাল আরবান লাইভলিহুড মিশনের সহযোগিতায় শহরী সমৃদ্ধি উৎসবের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় সমাজের অন্তিম ব্যক্তির নিকট সরকারকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করে গেছেন৷ তারই অঙ্গ হিসাবে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ন্যাশনাল আরবান লাইভলিহুড মিশন প্রকল্পটি চালু করেছেন৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার গঠিত হওয়ার পর অনেকগুলি যোজনা চালু হয়েছে৷ এরমধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী উজ্জলা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সৌভাগ্য যোজনা, মুদ্রা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী শৌচালয় যোজনা, আয়ুমান ভারত যোজনা, স্টার্ট আপ ইণ্ডিয়া, স্ট্যাণ্ড আপ ইণ্ডিয়া, বেটি বাঁচাও-বেটি পড়াও যোজনা প্রভ’তি৷ এই যোজনাগুলির অধিকাংশই মহিলাদের প্রাধান্য দিয়ে চালু করা হয়েছে৷ যোজনাগুলির মাধ্যমে মহিলাদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতার মানসিকতাও তৈরী হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী উজ্জলা যোজনার মাধ্যমে আমাদের রাজ্যে ৪ লক্ষ গ্যাস কানেকশান দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই ২লক্ষের উপর গ্যাস কানেকশান প্রদান করা হয়েছে৷ চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসের মধ্যেই বাকী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ আগরতলা পুর নিগম এলাকায় এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজ্যের আয়তনের তুলনায় স্ব-সহায়ক দলের সংখ্যা অন্যান্য রাজ্যগুলির চেয়ে বেশী৷ এই সকল স্ব-সহায়ক দলের সদস্যরা যেসব জিনিস তৈরী করছে সেগুলিকে বাজারজাত করার ব্যবস্থাও করতে হবে৷ সহায়ক দলের উৎপাদিত বিভিন্ন জিনিস বিক্রির জন্য অনলাইনে গর্ভমেন্ট ই-মার্কের্টিং (জেম)-এর সুযোগ নেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ কারণ এটি একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা৷ এই ব্যবস্থায় কোন ধরনের মধ্যস্থতাকারী থাকে না৷
রাজ্যের প্রতিটি স্ব-সহায়কদলকে গভর্মেন্ট ই-মার্কেটিং (জেম)-এ রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত নগরউন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তাকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷
মুখ্যমন্ত্রী স্ব-সহায়ক দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আধুনিক ব্যবস্থায় যুক্ত হবার পাশাপাশি কাজে পারদর্শিতা আনতে হবে৷ পাশাপাশি ইতিবাচক ও পেশাদারি মনোভাব তৈরী করতে হবে৷ এতে নিজের পাশাপাশি দেশ, রাজ্য এবং সমাজেরও লাভ হবে৷ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে মিলে যে সকল কাজ করছে তার মাধ্যমে যাতে দেশ ও রাজ্যের শহর এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা যায় সেই লক্ষ্যেই এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে৷ শহর এলাকায় বসবাসকারী যে সকল অসংগঠিত শ্রমিক রয়েছেন তাদের কিভাবে উন্নত করা যায় তার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন৷ স্কীল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার উপরও গুরুত্ব দিতে হবে৷ তবেই ন্যাশনাল লাইভলিহুডের কার্য্যাবলীর সফলতা আসবে৷
অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ড প্রফুল্লজিৎ সিনহা বলেন, স্ব-সহায়ক দলের সদস্যদের মধ্যে যোগ্যতা থাকা সত্বেও এখন পর্যন্ত যারা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুুবিধা পাননি তাদের চিহ্ণিত করে সেই সুুযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উৎসবের আয়োজন৷ আমারা চাইছি রাজ্যকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে৷ সবুজ ও উন্নত শহর গড়ার লক্ষ্যে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন৷
অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার ড শৈলেশ কুমার যাদব এবং নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা ড মিলিন্দ রামটেকে৷ শহরী উৎসবের অঙ্গ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে স্ব-সহায়ক দলের মহিলাদের মধ্যে সার্ভে করে যে সকল দূর্বল ও পিছিয়ে পড়া মহিলাদের চিহ্ণিত করা হয়েছে এমন ৩২ জনকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর, ২০ জনকে স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে শৌচালয়, ৪ জনকে প্রধানমন্ত্রী উজ্জলা যোজনায় গ্যাস চুল্লী, ৪টি স্ব-সহায়ক দলকে ১০ হাজার টাকা করে রিভলভিং ফাণ্ড প্রদান করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও ৩২ জনকে স্ব-নির্ভরতার জন্য ঋণ প্রদান করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ আজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আগরতলা পুর নিগমের ৪টি জোন থেকে ১ জন করে এই সুুবিধাগুলি সুুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷
শহরী উৎসব উপলক্ষে আগরতলা টাউন হল প্রাঙ্গণে স্ব-সহায়ক দলের উৎপাদিত সামগ্রীর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়৷ অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সহ অতিথিরা সেগুলি পরিদর্শন করেন৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র সমর চক্রবর্তী এবং পুর পরিষদ ফুলন ভট্টাচার্য৷