নয়াদিল্লি, ৪ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : সিবিআই নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বৈরথ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি সাংবিধানিক সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে। পরিস্থিতি ভয়ানক আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিন অধিবেশন শুরু হওয়া মাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন। এর উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি প্রায় অরাজক এবং বিশৃঙ্খলা পর্যায় পৌঁছে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতিবাদে মুখর হয়ে ধরনায় বসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্যের অধিকারকে আমরা শ্রদ্ধা করি।

কিন্তু পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে তাতে সংবিধানিক সঙ্কট দেখা দিতে পারে রাজ্যে। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সিবিআই-এর তরজা একেবারেই অনভিপ্রেত। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আমি রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি সঙ্গে কথা বলেছি। রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির সঙ্গে কথা বলেছেন। মাননীয় রাজ্যপালের কাছে ইতিমধ্যে রিপোর্ট তলব করেছি। সারদা চিটফান্ড তদন্তের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০১৪ সাল থেকে তদন্ত করছে সিবিআই। সিবিআই আধিকারিকদের তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কমিশনারকে বহুবার ডেকে পাঠানোর পরও তিনি সিবিআই-র কাছে হাজিরা দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সিবিআই আধিকারিকেরা কমিশনারের বাড়িতে গিয়েছিল। নিজেদের সুরক্ষার জন্য তাদের সঙ্গে ছিল সিআরপিএফ।’প্রসঙ্গত, সারদা মামলার তদন্তের জন্য কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসভবনে রবিবার সন্ধ্যায় হানায় সিবিআই আধিকারিকেরা। সেখানে তাদের বাধা দেয় পুলিশকর্মীরা। জোর করে সিবিআই আধিকারিকদের শেক্সপিয়ার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে সিবিআই-এর কাছে কোনও বৈধ কাগজ ছিল না। পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই হানার পর ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্না মঞ্চে হাজির হন রাজীব কুমার স্বয়ং।