৷৷ অভিজিৎ রায়চৌধুরী৷৷
নয়াদিল্লী, ৩ ফেব্রুয়ারী৷৷ বিজেপি-কে ঠেকাতে ত্রিপুরাতেও সিপিএম কংগ্রেস জোট গড়তে পারে৷ দুই দলের শীর্ষস্তরে এই সিদ্ধান্ত প্রায় পাকা হয়ে গেছে৷ এখনই ঘোষণা না দিলেও সময়মতোই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে৷ আর এই ঘোষণা ত্রিপুরার রাজনীতিতে নয়া ইতিহাস হয়ে থাকবে৷ লোকসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে৷ রাজ্যের যে পরিস্থিতি তাতে সিপিএম ও কংগ্রেস পৃথক ভাবে দাঁড়ালে বিজেপি অনায়াসে জয়ের তিলক পরবে৷ সিপিএম নেতৃত্বও দেখেছে এই মুহুর্তে কংগ্রেসের হাত না ধরিলে আরও বেশী সর্বনাশ হবে৷ ত্রিপুরায় এতকাল সিপিএম বিরোধীতার মধ্য দিয়ে কংগ্রেস রাজনীতি এগিয়েছে৷ কিন্তু পরিস্থিতি বদল হয়েছে৷ বিজেপি আটকাতে কংগ্রেস-সিপিএম কাছাকাছি আসার তাগিদ বাড়িয়েছে৷

ত্রিপুরায় পরিস্থিতি এমন যে, সিপিএম সহজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না৷ এবারের লোকসভা নির্বাচনে দুইটি আসনে কংগ্রেস-সিপিএম সমঝোতা হতে চলেছে৷ শুধু ত্রিপুরায় নয় পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যেও এই সমঝোতা হতে চলেছে৷ জানা গেছে, দুই দলের শীর্ষ নেতারা আসন সমঝোতার ব্যাপারে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন৷
এই সূত্রটি জানাচ্ছে যে, পূর্ব ত্রিপুরা আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেবে সিপিএম৷ অন্যদিকে, পশ্চিম ত্রিপুরায় কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না৷ পূর্ব ত্রিপুরা আসনে প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের নাম প্রায় পাকা হয়ে গেছে৷ বর্তমান পিসিসিও তাতে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে৷ সূত্রে জানা গেছে বিজেপির বিক্ষুব্ধ একটা অংশও প্রদ্যুৎ কিশোরকে সাহায্য করবেন বলে কথাও নাকি দিয়েছেন৷ এর জন্য মিটিং বৈঠকও হয়ে গেছে তলে তলে৷
এদিকে, ত্রিপুরার দুটি আসনে জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া বিজেপিও৷ ৯ই ফেব্রুয়ারী সরকারী কর্মসূচীতে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন৷ এর আগে এক দফা ঘুরে গেছেন দলের সভাপতি অমিত শাহ৷ বিজেপি রাজ্য নেতারাও অনেক বেশী আশাবাদী যে দুইটি আসনেই এবার বিজেপি জয় নিতে পারবে৷ আর এজন্য শংকিত সিপিএম৷ রাজনীতির হিসেবে দেখা যায় সিপিএম এখন বন্ধু ছাড়া চলতে পারবে না৷ ত্রিপুরায় ১৯৭৮ সালে দলছুট কংগ্রেসীদের কারণেই সিপিএম প্রথম সরকার গঠন করে৷ এবার খোদ কংগ্রেসের মদতে বিজেপিকে কাত করতে সিপিএম প্রস্তুত হয়েছে৷ এটাই রাজনীতির নয়া খেলা হিসেবে বিবেচিত৷
এদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসেও ব্যাপক পরিবর্তন হতে চলেছে৷ সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রদেশ কমিটিকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন৷ বর্তমান প্রদেশ সভাপতি বীরজিৎ সিনহাকে সর্বভারতীয় স্তরে বড় দায়িত্ব দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে৷ অন্যদিকে নতুন প্রদেশ সভাপতি পদে বৃত হতে চলেছেন গোপাল রায়৷ ইতিপূর্বেও তিনি প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন৷