নয়াদিল্লি, ২৯ জানুয়ারি (হি.স.): দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ| মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি| মৃত্যুকালে প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর| বেশ কিছুদিন ধরেই অ্যালঝাইমার্স রোগে আক্রান্ত ছিলেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ| জনজীবন থেকে নিজেকে একেবারেই সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি| মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে জীবনাবসান হয়েছে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ-এর| পরিবার সূত্রের খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে ভুগছিলেন জর্জ ফার্নান্ডেজ| অ্যালঝাইমার্স রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি| সম্প্রতি সোয়াইন ফ্লুতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন| এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়| দীর্ঘ রোগভোগের পর মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ|

১৯৩০ সালের ৩ জুন ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জর্জ ফার্নান্ডেজ| ১৯৫০ সালের পর থেকে তিনি ক্রমশ একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে প্রচারের আলোয় চলে আসেন| মুম্বইয়ে তাঁর নেতৃত্বে একাধিক বনধও সংগঠিত হয়েছে| ১৯৬৭ সালে তিনি সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নির্বাচিত হন| কংগ্রেসের এস কে পাটিলকে হারিয়ে দক্ষিণ বম্বে লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হন জর্জ|সমতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছিলেন| পাকিস্তানের সঙ্গে কার্গিল যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি| প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে রাজস্থানের পোখরানে পরমাণু পরীক্ষার সময়ও তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন| ২০০২ সালে কফিন কেলেঙ্কারি ও ২০০৬ সালে বারাক কেলেঙ্কারির সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল তাঁর| প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ছাড়াও যোগাযোগ, শিল্প ও রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন জর্জ| এছাড়াও ২০০৯ সালের আগস্ট মাস থেকে ২০১০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন|
প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ-এর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈিতক মহল| শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং,কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রমুখ| জর্জ ফার্নান্ডেজ-এর মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই তাঁর দিল্লির বাসভবনে যান বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা সমতা পার্টির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জয়া জেটলি|