
প্রজাতন্ত্র দিবসে সেনা সম্মান ‘অশোক চক্র’ তুলে দেওয়া হল শহিদ জওয়ান ল্যান্সনায়ক নাজির আহমেদের স্ত্রী’র হাতে।
নয়াদিল্লি, ২৬ জানুয়ারি (হি.স.) : প্রজাতন্ত্র দিবসে সেনা সম্মান ‘অশোক চক্র’ তুলে দেওয়া হল শহিদ জওয়ান ল্যান্সনায়ক নাজির আহমেদের স্ত্রী’র হাতে। নিজে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও দেশের জন্য জঙ্গিনিধন করেছিলেন তিনি। তাই তাঁকে দেওয়া হল সাহসিকতার জন্য দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার।
একসময় জঙ্গিদের দলে ছিলেন আজকের এই নায়ক। পরবর্তীকালে সন্ত্রাসবাদ ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বীরত্বের পরিচয় দেন তিনি। গত বছরের নভেম্বরে কাশ্মীরের শোপিয়ানে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে শহিদ হন ল্যান্সনায়েক নাজির আহমেদ ওয়ানি। নাজিরের স্ত্রী মহাজীবনের হাতে এই সম্মান তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।সেনাবাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রির ১৬২ ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে যোগ দেন নাজির। তাঁর বাড়ি জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগাম জেলার চেকি আশমুজিতে। শুরু থেকেই অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিতে থাকেন নাজির। তিনি সবসময় জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করতেন। সাহসিকতার জন্য ২০০৭ ও ২০১৮ সালে সেনা পদক পান তিনি।
২০০৪ সালেই জঙ্গি ডেরা থেকে পালিয়ে আসেন নাজির। আত্মসমর্পণ করে পুলিশকে নাজির জানিয়েছিলেন, দেশের জন্য তিনি কিছু করতে চান। নাজিরের কথা বিশ্বাস করেন এক সেনা আধিকারিক। শুরু হয় তাঁর সেনা প্রশিক্ষণ৷ প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগ দেন নাজির৷ একের পর এক অভিযানে গিয়ে জঙ্গি দমন করেন৷ গত ২৩ নভেম্বর সোপিয়ানে এমনই এক জঙ্গি নিধন অভিযানে যান ৩৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের এই জওয়ান৷ ওই দিনই শহিদ হন৷ কিন্তু মারা যাওয়ার আগে জম্মু কাশ্মীরের সোপিয়ানে হিজবুল ও লস্কর জঙ্গিকে নিকেষ করেন৷