শবরীমালা মন্দিরে দু’জন মহিলার প্রবেশের জের, হরতাল-প্রতিবাদে উত্তাল কেরল

তিরুবনন্তপুরম, ৩ জানুয়ারি (হি.স.): ইতিহাস রচনা করে কেরলের শবরীমালা মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করেছেন কনকদূর্গা এবং বিন্দু নামে দু’জন মহিলা| শবরীমালা মন্দিরের গর্ভগৃহে পৌঁছে আয়াপ্পা স্বামীর পুজোও দিয়েছেন কনকদূর্গা এবং বিন্দু| যা ইতিহাস রচনা করেছে| কিন্তু, পঞ্চাশ বছরের নীচে দু’জন মহিলার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশকে ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল হল কেরল| দু’জন ঋতুমতী মহিলার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কেরলজুড়ে শুরু হয়েছে ১২ ঘন্টার হরতাল| কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন শবরীমালা কর্মা সমিতি-সহ বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা বনধকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মন্দির সংলগ্ন এলাকা এবং কেরলের বিস্তীর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী| বনধের জেরে সকাল থেকেই রাস্তায় বন্ধ যান চলাচল| বন্ধ দোকান-বাজার| 
হরতালের কারণে এদিনের জন্য কেরলে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্ণাটক রাজ্য পরিবহণ নিগম| কর্ণাটক রাজ্য পরিবহণ নিগম (কেএসআরটিসি)-এর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, শবরীমালা মন্দিরে দু’জন মহিলার প্রবেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা হরতালের কারণে এদিনের জন্য কেরলে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে| বাস পরিষেবা বন্ধ রয়েছে কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমেও| তিরুবনন্তপুরম সেন্ট্রালে বাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে| এদিকে, বুধবারের হিংসা এবং পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় (পাঠানামথিট্টা জেলার পাণ্ডালামে) বৃহস্পতিবার দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ| হরতালের পাশাপাশি শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী দু’জন মহিলার প্রবেশে বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ‘কালা দিবস’ পালন করছে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট| 
কেরলের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার উপরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,২৬০ মিটার উপরে পাহাড়ের উপর উপস্থিত শবরীমালা মন্দির| এযাবত্ ১০-৫০ বছর বয়সি (ঋতুমতী) মহিলাদের মন্দিরে ঢোকার কোনও অনুমতি ছিল না| মন্দিরে ঢুকতে হলে বয়সের প্রমাণপত্র দেখাতে হত| ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্টতই জানিয়েছিল, কেরলের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন সমস্ত বয়সের মহিলারা| সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর থেকেই শবরীমালা মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেন বহু মহিলা| কিন্তু, আয়াপ্পা-ভক্তদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কারণে মন্দিরে ঢুকতেই পারেননি মহিলারা| সেই লড়াইয়ে ২০১৯ হয়ে রইল মাইলফলক| গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে শবরীমালা মন্দিরে ঢোকার জন্য পেম্বা বেস থেকে যাত্রা শুরু করেন বিন্দু এবং কনকদুর্গা নামে ওই দু’জন মহিলা| তাঁদের নিরাপত্তায় ছিল পুলিশের একটি টিম| পুলিশি নিরাপত্তায় বুধবার ভোররাত ৩.৪৫ মিনিট নাগাদ মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করেন তাঁরা| কালো কাপড় পরে তাঁরা মন্দিরে ঢুকে আয়াপ্পা স্বামীর প্রার্থনা করে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন| অবশেষে অবসান হল বহু প্রাচীন প্রথার, সূচনা হল নতুন অধ্যায়ের|
প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সূত্রপাত এরপর থেকেই| দু’জন মহিলার প্রবেশে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে, এই কারণ দেখিয়ে প্রথমে শুদ্ধিকরণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় শবরীমালা মন্দির| বেলা বাড়তেই প্রতিবাদে সরব হন আয়াপ্পা ভক্তরা| পাঠানামথিট্টা জেলার পান্ডালামে শবরীমালা অ্যাকশন কাউন্সিলব মিছিল করে| এমনকি পাথরও নিক্ষেপ করা হয়| সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সিপিআইএম এবং বিজেপি| সংঘর্ষে আহত হন শবরীমালা কর্মা সমিতির বছর ৫৫-র একজন কর্মী| পরে মৃতু্য হয় তাঁর| এই ঘটনার তদন্তে নেমে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ| শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী দু’জন মহিলার প্রবেশ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা ভি মুরলীধরণ বলেছেন, ‘বুধবার দু’জন মহিলা শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করেছেন| তাঁরা মোটেও ভক্ত নয়| আসলে তাঁরা মাওবাদী| কেরল সরকার এবং সিপিএম-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে মাওবাদীদের এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র|’