উদয়পুর (রাজস্থান), ১ ডিসেম্বর (হি.স.) : সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। শনিবার উদয়পুরে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক সম্পদ’ হিসেবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক-কে ব্যবহার করেছেন। এদিন মূলত প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেই যাবতীয় আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক আদতে একটি সামরিক সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী সেই সামরিক সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সেনাবাহিনী চেয়েছিল বিষয়টিকে
গোপন রাখতে। কিন্তু সেই সময় উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায় থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে প্রচারে এনে রাজনৈতিক ফায়দা তোলেন। মনমোহন সিং-এর আমলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো সামরিক অভিযান তিনবার হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী চেয়েছিল বিষয়টিকে গোপন রাখতে। বিষয়টি গোপনই থেকে যায়।

ঋণ খেলাপি শিল্পপতিদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ আমলে ব্যাঙ্কের আনাদায়ে ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু বিজেপির আমলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ১৫ থেকে ২০ শিল্পপতিদের খুশি করার জন্য ঋণ মকুব করে দেওয়া হয়। ব্যাঙ্কগুলিকে সেই কাজেই লাগানো হয়েছে। ব্যাঙ্কের অনাদায়ের ঋণের তালিকায় কোনও ছোট, মাঝারি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নেই। ডাক্তার বা আইনজীবীও এই তালিকায় নেই।
নোটবন্দি ও জিএসটি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই দুইটি সিদ্ধান্তে মানুষ নাজেহাল। কেন্দ্রের এই দুইটি বড় পদক্ষেপকে ‘দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এইগুলি দুর্নীতি ছিল। যা বড় কোম্পানিগুলির জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। কিন্তু যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে এই সরকার। তথ্য রক্ষনাবেক্ষণ নিয়ে বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলি বুঝে গিয়েছে চিন ও ভারতের কাছেই সব চেয়ে বেশি তথ্য রয়েছে। মানুষের তথ্য রক্ষা করা উচিত। তা ক্রনি ক্যাপিটালিস্টদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। দেশের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আয়ুষ্মান ভারত-এর মতো স্বাস্থ্য বীমা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু দেশের হাসপাতালগুলির অবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা বিনিয়োগ করা ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। যদি সঠিক সরকার দেশের হাল ধরে তবে চিনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত।