সাময়িক স্বস্তিতে চাকুরিচ্যুত শিক্ষকরা, চার মাস বাদে পরবর্তী শুনানি, সুপ্রিম রায়ে মেয়াদ বেড়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ নভেম্বর৷৷ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেন চাকুরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা৷ এডহক ভিত্তিতে তাদের চাকুরির মেয়াদ বেড়েছে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত৷ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যক ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন৷ চারমাস বাদে ফের পর্যালোচনা করবে সুপ্রিম কোর্ট৷ এরই মাঝে শিক্ষক নিয়োগে এককালিন ছাড়ে রাজ্যের আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে৷ সেদিকে নজরও রাখবে শীর্ষ আদালত৷

এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত এবং বিচারপতি কে এম জোসেফকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে চাকুরিচ্যুত শিক্ষকদের এডহক ভিত্তিতে চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের শুনানি হয়েছে৷ শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিবের পক্ষে আইনজীবী পি এস পাটওয়ালিয়া, রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী মন্দির সিং, মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিনয় নাভারে এবং ভারত সরকারের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য এদিন আদালত শুনেছে৷ সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বলেছে, চাকুরিচ্যুত শিক্ষকদের চাকুরির মেয়াদ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে৷ ত্রিপুরার পরিস্থিতি বিচার করেই এই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে আদালত জানিয়েছে৷ তাতে শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনও প্রভাব পড়বে না এবং সুকলগুলি স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত হবে৷

এদিকে, সলিসিটার জেনারেল তুষার মেতহা আদালতকে জানিয়েছে, তিন দফায় ত্রিপুরা সরকার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতায় এককালিন ছাড়ের যে আবেদন জানিয়েছে তা নিয়ে ভারত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে৷ আদালত বলেছে, ওই ছাড় মিললে শিক্ষক নিয়োগে ক্ষেত্রে জটিলতার অবসান হবে৷ তাই, আদালত সলিসিটার জেনারেলকে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে বিষয়টির ফসলা করার জন্য বলেছে৷

এদিকে, আদালত বহিঃরাজ্য থেকে বিএড কিংবা ডিএলএড ডিগ্রিধারীদের চাকুরিতে সুযোগ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে৷ স্থানীয়দের উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএড কিংবা ডিএলএড ডিগ্রী নেওয়ার জন্য ঋণের বন্দোবস্ত করতে রাজ্য সরকারকে বলেছে শীর্ষ আদালত৷ অন্তত পাঁচ হাজার জনকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের এই সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং বৃহৎ প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ যাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা প্রয়োজনে বহিঃরাজ্য থেকে বিএড কিংবা ডিএলএড করতে পারেন৷

এই মামলাটি চার মাস বাদে পূনরায় পর্যালোচনা করা হবে৷ ওই সময় ভারত সরকার নির্দেশের কতটা পালন করেছে তাও খতিয়ে দেখবে শীর্ষ আদালত৷ এদিন শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিবের আদালতে ব্যক্তিগত উপস্থিতির আর কোন প্রয়োজন নেই বলে আদালত বলেছে৷

আদালতের এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্বস্তি বোধ করছেন চাকুরীচ্যুত শিক্ষকরা৷ পূর্বতন সরকারের ভুল নিয়োগ নীতির কারণে উচ্চ আদালতের ১০৩২৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকুরী বাতিল করেছিল৷ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়৷ কিন্তু, সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় উচ্চ আদালতের রায় বহাল রাখে৷ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়৷ কিন্তু, এরই মধ্যে তাঁদের চাকুরীতে বহাল রাখার জন্য সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল৷ তাতে, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে চাকুরীচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এডহক ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগের অনুমতি দেয়৷ কিন্ত, গত মার্চ মাসে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়ে যায়৷ নতুন সরকার আবারো এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়৷ কারণ, একসাথে বিরাট সংখ্যায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকুরী বাতিল হয়ে গেলে সুকল পরিচালনা মুশকিল হয়ে পড়বে৷ তাই সুপ্রিম কোর্টে চাকুরীচ্যুতদের চাকুরীর মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *