মমতা ‘ইউ টার্ন দিদি’, টিএমসি টেরর মেকিং মেশিন, দাবি পুনম মহাজনের

কলকাতা, ১১ আগস্ট (হি. স.): ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সমাবেশে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে দলীয় নেতারাও রাজ্যে পালাবদলের অঙ্গীকার করলেন৷ শনিবার যুব স্বাভিমান অনুষ্ঠানে বিজেওয়াইএম সভানেত্রী পুনম মহাজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম দেন ‘ইউ টার্ন দিদি’| টিএমসি-কে তিনি চিহ্নিত করেন টেরর মেকিং মেশিন বলে|

পুনম বলেন, পরিবর্তনের আশা দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতাজী| কিন্তু কোথায় পরিবর্তন? মা-মাটি-মানুষ তিনটির স্বপ্নই আজ ধুলিসাত| রাহুল গান্ধী অমেথিকে সিঙ্গাপুর করবেন ভেবেছিলেন| পারেননি| অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিকে লন্ডন করবেন ভেবেছিলেন| পারেননি| কিন্তু ম্ম্তাদিদী চুপচাপ পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানিয়ে দিয়েছেন|”

মুকুল রায় বলেন, “একসময় বামপন্থীরা বলেছিল গো ব্যাক ম্যাকনামারা| মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক| মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ভাল তবিয়তে আছে| নিপাত গিয়েছে ওই বামপন্থীরা| আজ যারা কলা দিবস ডেকেছে, ১০ বছর বাদে তারা বিলীন হয়ে যাবে| দুরবিন দিয়েও তাঁদের খুঁজে পাবেন না| এই মুহুর্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাংলায় গনতন্ত্র থাকবে কি না| বেছে বেছে বিজেপি-দের গ্রেফতার করা হচ্ছে| মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে| পঞ্চায়েত ভোটে ৭০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন| ৩৪ শতাংশ আসনে মানুষ ভোট দিতে পারেননি| তা সত্বেও মমতা জেনে রাখুন, ২২ নয়, ২০১৯-এ তার চেয়ে বেশি আসন পাবে বিজেপি| ২০২১ নয়, তার আগেই ভেঙ্গে যাবে এ রাজ্যের সরকার|

রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুকুলবাবু বলেন, ২০১১-র পর থেকে এ রাজ্যে মমতাকে বাদ দিলে তাঁর পরিবারের ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২০০ কোটি টাকা| এর পর তিনি স্লোগান দেন ‘এবার বাংলা’, সমবেতরা প্রতিধ্বনি দেয়, ‘চল বদলাই’”| মুকুলবাবুর সুরেই এ দিন বিজেওয়াইএম-এর রাজ্য সভাপতি দেবজিত সরকার সমাবেশে ভাষণে বলেন, “যুবসমাজ রোজগার চায়| ভিখিরি হতে চায় না| ভারতের অন্য রাজ্যের লোকের কাছে বাংলার মানুষকে ভিখিরির পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে এ রাজ্যের সরকার| আমরা দু টাকা কিলো চাল চাই না| ৭৫ শতাংশ দলীয় তহবিলে দিলে তবে যে কোনও আয় মনজুর| যুবসমাজকে শিখিয়্ছেন দিদিমনি|”

বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, স্কুলে স্কুলে শিক্ষক নেই| কলেজে লেকচারার নেই| প্যারা টিচার দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে| উপাচার্যরা টিকতে পারছেন না| প্রথমিক শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ বহুকাল| গনতন্ত্র নেই| একটা পথসভা করতে গেলে হাইকোর্ট থেকে অনুমতি আনতে হয়| অথচ এই মুখ্যমন্ত্রী সুপার ইমার্জেন্সির কথা বলেন| কারখানাগুলি স্তব্ধ| সমানে খুন-জখম চলছে| বাংলায় সিমি-র মত জঙ্গিরা ঢুকে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে| পুলিশ কী করছে? মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ‘এগিয়ে বাংলা’| কিন্তু কোন দিকে এগিয়ে? সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ? নারী পাচার? গনতন্ত্র হত্যা?

রাহুল সিনহা বলেন, সোনার বাংলা এখন চলায় বাংলায় পরিণত হয়েছে| রাজ্যের শিল্প চালাচ্ছে দিদির ভাইয়েরা| শিক্ষা-শিল্প-স্বাস্থ্য়-মেধা সব কিছুতে পেছচ্ছে বাংলা| এই বাংলাকে আর পেছতে দেওয়া যাবে না| তৃণমূলকে তিনি কটাক্ষ করে এ দিন বলেন, ঢুকু ঢুকু পিও, যুগযুগ জিওাকে বাদ দিয়ে এদিন কলকাতাকে বাদ দিয়ে জেলায় জেলায় এনআরসি নিয়ে ধিক্কার দিবসের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। এ সম্পর্কে রাহুল সিনহা বলেন, কলকাতা থেকে পালিয়েছে তৃণমূল। এরপর বাংলা ছেড়ে পালাবে। রাহুল সিনহা বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, অমিত শাহ অন, তৃণমূল গন।

শমিক ভট্টাচার্য বলেন, বাংলার মানুষ নীতিহীনতার প্রতিবাদে বামেদের ভোট দিয়ে সরিয়েছিল| কিন্তু এর পর মানুষ তার বাক স্বাধীনতা হারিয়েছে| দিনের পর দিন গনতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর আঘাত আসছে|এখানকার মানুষ এখন পরিত্রাণ চাইছে তৃণমূলের হাত থেকে| সেই ঘন্টা ধ্বনি বাজতে শুরু করেছে| আপনারা সেটিকে জোরদার করুন|

এ দিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এ রাজ্যের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুরিন্দর সিং আহলুওয়ালিয়া, সাংসদ রুপা গঙ্গোপাধ্যায়, মুরুলিধর রাও, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, স্বপন দাশগুপ্ত, সুরেশ পুজারী প্রমুখ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ| এসেছিলেন বিজেওয়াইএম-এর বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ প্রতিনিধিরা|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *