হাফলং (অসম), ১১ আগস্ট, (হি.স.) : অসমের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত গোবিন্দ লাংথাসার ছেলে পূর্ণেন্দু লাংথাসা ও নিন্দু লাংথাসা হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে কংগ্ৰেসের পর এবার সরব হয়ে উঠেছে বিজেপির জোটশরিক অগপ। প্ৰাক্তন ডিএইচডি (জে) সদস্য ডেভিড কেম্প্রাই ওরফে মুপিত রাজিয়ুং ওরফে অ্যাকশন ডিমাসার হাফলং জেলা ও দায়রা আদালতে প্রদত্ত জবানবন্দির খবর সংবাদ মাধ্যমে প্ৰকাশ হওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাহাড়ি জেলার রাজনীতি। এছাড়া একই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ আগস্ট ১০ ঘণ্টার ডিমা হাসাও জেলা বনধের ডাক দিয়েছে জেলা কংগ্রেস।
ডিএইচডি (জে)-র প্রাক্তন সদস্য অ্যাকশন ডিমাসার আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য অনুসারে উত্তর কাছাড় পাৰ্বত্য স্বশাসিত পরিষদের তদানীন্তন ইএম নিন্দু লাংথাসাকে বৰ্তমানের সিইএম দেবলাল গারলোসাই হত্যা করেছিলেন। সঙ্গে পার্বত্য পরিষদের তৎকালীন সদস্য প্ৰফুল্ল ফংলোর দেহরক্ষীকে হত্যা করে ৯ এমএম কার্বাইন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে দেবলাল গারলোসার নিৰ্দেশে পার্বত্য পরিষদের তৎকালীন সিইএম পূৰ্ণেন্দু লাংথাসাকে গুলি করে খুন করে ডিএইচডি (জে)-র অন্য এক সদস্য গেলামলাই। এর প্ৰত্যক্ষদৰ্শী ছিল জবানবন্দি প্রদত্ত খোদ অ্যাকশন ডিমাসা। সিইএম দেবোলাল গারলোসাকে গ্ৰেফতারের পাশাপাশি পাৰ্বত্য পরিষদ ভঙ্গের দাবিতে শনিবার হাফলঙে অগপ এক প্ৰতিবাদী মিছিল বের করে।
পার্বত্য পরিষদের বর্তমান সিইএম দেবোলাল গারলোসাকে গ্রেফতারের দাবিতে মিছিলকারীরা উত্তাল করে তুলেন হাফলং শহর। মিছিল হাফলং অগপ জেলা কার্যালয় থেকে বের হয়ে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ সচিবালয়, রোটারি হয়ে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে আসে। এর পর মিছিলের এক প্রতিনিধি দল জেলাশাসক অমিতাভ রাজখোয়ার সঙ্গে দেখা করে তাঁর মাধ্যমে রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি এবং মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়ালের উদ্দেশে পৃথক দুটি স্মারকপত্র তুলে দেয়। স্মারকপত্রে অবিলম্বে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের সিইএম দেবোলাল গারলোসাকে গ্রেফতার করা এবং তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান বিজেপিশাসিত পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটি ভঙ্গ করে পার্বত্য পরিষদের দায়িত্ব রাজ্যপাল তাঁর নিজের হাতে তুলে নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
শনিবারের মিছিলে অংশ নেন অগপ-র ডিমা হাসাও জেলা কমিটির সভাপতি বকুল বডো, পার্বত্য পরিষদের প্ৰাক্তন সিইএম দেবজিৎ থাওসেন, প্ৰাক্তন সাংসদ তথা পরিষদের প্রাক্তন সিইএম প্ৰকান্ত ওয়ারিশা, বিজয় সেঙ্গইয়ং, এল লিমা, কেভম খবলথাং মার প্ৰমুখ নেতা ও কৰ্মী। হাতে হাতে প্লে-কাৰ্ড নিয়ে জেলার বিভিন্ন প্ৰান্তের অগপ কৰ্মীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।
পাৰ্বত্য পরিষদের সদস্য তথা প্ৰাক্তন সিইএম দেবজিৎ থাওসেন বলেন, আদালতে প্ৰত্যক্ষদৰ্শীর সাক্ষ্য দেওয়ার পর আর কী বাকি রইল। এ জন্য অবিলম্বে দেবোলাল গারলোসাকে গ্ৰেফতার করার পাশাপাশি পাৰ্বত্য পরিষদ ভঙ্গ করা ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা নেই। দেবজিৎ বলেন, খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি পবিত্র পরিষদের সিইএম পদে থাকার কোনোও অধিকার নেই। অন্যদিকে প্ৰাক্তন সাংসদ তথা পরিষদের প্রাক্তন সিইএম প্ৰকান্ত ওয়ারিশা বলেন, প্ৰাক্তন ডিএইচডি সদস্য ডেভিড কেম্প্রাই ওরফে মুপিত রাজিয়ুং ওরফে অ্যাকশন ডিমাসা প্রদত্ত সাক্ষ্য অনুসারে বৰ্তমান বিজেপিশাসিত পরিষদের সিইএম দেবোলাল গারলোসা ওরফে ড্যানিয়াল ডিমাসা পূর্ণেন্দু ও নিন্দু লাংথাসা হত্যাকাণ্ডে জড়িত। প্রাক্তন জঙ্গি ডেভিড কেম্প্রাইয়ের এমন জবানবন্দি দেওয়ার পর দেবোলাল গারোলসার ক্ষমতায় থাকার কোনোও অধিকার নেই। কারণ মানুষ খুন করার মতো বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। তাই অবিলম্বে রাজ্য সরকার পাৰ্বত্য পরিষদ ভঙ্গ করার পাশাপাশি দেবোলালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্ৰেফতার করার দাবি জানান প্রকান্ত ওয়ারিশা। অগপ নেতা জেড নুনিসা বলেন, এর পরও যদি রাজ্য সরকার এনিয়ে দেবোলাল গারলোসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তা হলে অগপ পাহাড়ি জেলার সর্বত্র তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল ও অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার বাসভবনের সামনে ধরনায় বসবে।