নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ জুলাই৷৷ এবার বয়স উত্তীর্ণদের চাকরি দিতে চাইছে রাজ্য সরকার৷ বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হয়ে কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বঞ্চিত যোগ্যদের এখন নিয়োগের বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করচে রাজ্যের বিজেপি পরিচালিত জোট সরকার৷ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ সরাসরি কিছু না বললেও এই বিষয়ে কিছু আভাস দিলেন৷ বলেন, দীর্ঘ বাম শাসনে যে সমস্ত যুবকরা বিভিন্ন পদে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে ঘুরতে চাকরির বয়স পার গেছে সেই সমস্ত বয়স উত্তীর্ণ বেকারদের চাকরি দেবার চিন্তা ভাবনা করা অবশ্যই প্রয়োজন৷ এই সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে৷ এই সরকার জনগমের কাছে দায়বদ্ধ৷ তাই রাজ্য সরকারে বিবেচনায় রয়েছে বিষয়টি৷ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, ৮ বয়স উত্তীর্ণ বেকারকে এবার টেট পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছে মন্ত্রীসভা৷ শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে ৮ জয় বয়স উত্তীর্ণ অ্যাডহক শিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত রয়েছেন৷ যদিও সরকারি নিয়ম মোতাবেক এই অ্যাডহক শিক্ষক হলেও এদের সাধারণ বেকারের মতই বিবেচনা করার কথা৷ কিন্তু রাজ্য সরকার মানবিকতার দিক দিয়ে বিচার বিবেচনা করে এদেরকে টেট পরীক্ষায় সুযোগ করে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েচে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷
প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালে কংগ্রেস যুব সমিতির জোট সরকার রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাজ্য সরকার প্রচুর বয়সোত্তির্ণ বেকারদের চাকুরী দিয়েছিল৷ সেই সময়ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন বহু শিক্ষিত বেকার৷ জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী দিয়েছিল৷ ধারণা করা হচ্ছে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার সেই পথেই হাটছে৷ বাম রাজত্বে বরাবরই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন শিক্ষিত যুবক যুবতীরা৷
গত পঁচিশ বছরে রাজ্যে সরকারী চাকুরী প্রদানের ক্ষেত্রে নগ্ণ দলবাজী করা হয়েছে৷ আর এই বিষয়ে দ্বিমত নেই৷ অভিযোগ ছিল, বাম জমানায় লালা ঝান্ডা নিয়ে মিছিলে না হাটলে সরকারী চাকুরী মিলে না৷ নিয়োগ নীতির কোন বালাই ছিল না৷ চাকুরীপ্রাপক ভাগ্যবানদের নামের তালিকা তৈরী হত সিপিএম পার্টি অফিসগুলিতে৷ চাকুরী ক্ষেত্রে দলবাজীর পাশাপাশি স্বজন পোষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল৷ বছরের পর বছর যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে চাকুরী প্রদানে ব্যাপক দলবাজী করা হয়েছে৷
2018-07-28