বাড়ছে বাংলাদেশের সঙ্গে বর্ডার হাট

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ জুলাই৷৷ ভারত – বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সীমান্তে বর্ডার হাটের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন করে ৬টি বর্ডার হচ্ছে সীমান্তে। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৪টি সীমান্তহাটে বানিজ্য চলছে। উভয় দেশের মধ্যে আরো ৬টি সীমান্তহাট স্থাপন করা হবে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে নীতি নির্ধারণ কমিটি ও পরিচালন কমিটি বিষয় গুলো খতিয়ে দেখেছেন।এই জন্য উভয় দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ সীমান্তহাট কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আগরতলায়। সোমবার আগরতলার রাজ্য সরকারি অতিথিশালায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।জানাগেছে, নতুি হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এর দুটি হবে ত্রিপুরা রাজ্যে ও বাকি চারটি হবে মেঘালয় রাজ্যে।
এই যৌথ কমিটি ত্রিপুরা র কসবা সীমান্তের সীমান্ত হাট ঘুরে দেখেছেন। হাটে আসা ব্যবসায়ী, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার বিষয়ে জেনেছেন। তাদের সমস্যা সমাধান করা যায় ও আরো কি কি সুবিধা যুক্তকরা যায় এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যৌথ কমিটির বৈঠকে। সেই সঙ্গে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী বছরের বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে আরো ৬টি সীমান্তহাট স্থাপনের জন্য জমি চুড়ান্ত করা হবে। সীমান্তহাট পরিচালনার জন্য সুষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলি সীমান্তহাট পরিচালনার কাজে যারা যুক্ত তাদের কাছে দেওয়া হবে যাতে পরিচালনাগত ত্রুটি দূর হয়। কারণ অনেকর সীমান্তহাট পরিচালনাগত সুস্পষ্ট ধারণা নেই। হাটে বাংলাদেশের পণ্যের চেয়ে ভারতীয় পণ্য বেশী বিক্রি হয়।
বর্তমানে ত্রিপুরার সীমান্তহাট গুলি সপ্তাহে একাধিক দিন বসার জন্য উভয়দেশের স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা বিবেচনা করে পরবর্তী সময় বাড়ানো হতে পারে।
এই যৌথ বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দক্ষিন এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ভূপিন্দর এস ভাল্লা। তার সঙ্গে ছিলেন মোট ১১জনের প্রতিনিধি দল।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মোট ৮জন সদস্য। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার(২৫ জুলাই) আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে যাবেন।
সোমবারও চলছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বৈঠক। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই বৈঠক। বিএসএফ এবং বিজিবি-র এই বৈঠক চলবে চার দিন।জানা গেছে, এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় হল আন্তঃসীমান্ত সমস্যা-সহ আরও বিভিন্ন বিষয়। জানা গেছে, রবিবার থেকে চার দিনব্যাপী আগরতলায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে বিজিবি-র ১৪ জনের এক প্রতিনিধি দল এসেছে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে আলোচনার বিষয় হিসাবে স্থান পেয়েছে, সীমান্তে চোরাকারবার বন্ধ করা, সীমান্তে এখনও যে সমস্ত জায়গাগুলি কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ হয়নি সে সমস্ত জায়গাগুলিতে অতিসত্বর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেবে ঘোষণা অনুযায়ী ত্রিপুরাকে নেশামুক্ত রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ত্রিপুরাকে করিডোর করে কিছুতেই যাতে নেশা সামগ্রী পাচার না হয় সে বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনায় স্থান পেয়েছে। তাছাড়া বর্ডারহাট নির্মাণ নিয়েও এই বৈঠকে বিএসএফ এবং বিজিবি-র মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।