নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুলাই ৷৷ রাজ্যের চা শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম৷ রাজ্য সরকারের সাথে
আলোচনা করে ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম রাজ্যে শীঘ্রই একটি চায়ের অকশন কেন্দ্র চালু করবে৷ গতকাল নিগমের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্স-এর সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ আজ ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা এই সংবাদ জানান৷ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, এতোদিন রাজ্যে উৎপাদিত চা কলকাতা ও গুয়াহাটিতে নিয়ে গিয়ে অকশন করা হতো৷ রাজ্যের চা শিল্পের বিকাশে এই অসুবিধা দূর করতে নিগম উদ্যোগী হয়েছে৷
নিগমের চেয়ারম্যান শ্রী সাহা জানান, রাজ্যের নতুন সরকার শিল্পের প্রসারে উদ্যোগী হয়েছে৷ গতকাল নিগমের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের সভায় চা শিল্পের বিকাশে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এ রাজ্যের অর্ধ লক্ষ মানুষ চা শিল্পের সাথে যুক্ত আছেন৷ তাদের জীবিকা নির্ভর করে চা শিল্পের উপর৷ কিন্তু তাদের আর্থ-সামাজিক মান খুবই অনুন্নত৷ নিগম চেষ্টা করবে সরকারের সহায়তায় চা শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিক পরিবারে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দিতে৷ তিনি জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আর্থিক বিকাশ ও কর্মসংস্থানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্ব দিয়েছেন৷ নিগমও চাইছে বাগান ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তুলতে৷ গতকাল বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের সভায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রীর সাথেও এ নিয়ে কথা হয়েছে৷
সাংবাদিক সম্মেলনে নিগমের চেয়ারম্যান জানান, রাজ্যের চা শিল্পের বিকাশে একটি স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে ক্ষেত্র সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিগম৷ এ বিষয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন৷ তিনি জানান, রাজ্যে চা শিল্পের প্রসারে ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম, শিল্প দপ্তরের টি সেল, টি আর এ এবং টি বোর্ড কাজ করছে৷ কিন্তু এদের মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই৷ আগামী দিনে চা শিল্পের বিকাশে এই চারটি সংস্থা ও দপ্তরের কাজে মধ্যে একটা সমন্বয় আনার চেষ্টা করা হবে৷ সাংবাদিক সম্মেলনে নিগমের চেয়ারম্যান জানান, রাজ্যে ৫৮টি চা বাগান রয়েছে৷ এর মধ্যে ৩টি বাগান ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগম নিয়ন্ত্রণ করে৷ ১৩টি চা বাগান চলছে সমবায় ভিত্তিক এবং ৪২টি চা বাগান ব্যক্তি মালিকানাধীন৷ এ সমস্ত চা বাগানে ১৩ হাজার ৩৮০ জন শ্রমিক কর্মরত৷ তাছাড়াও রাজ্যে ৩ হাজার ২৭৩ জন ক্ষুদ্র চা উৎপাদক রয়েছেন৷ রাজ্যে এখন চা উৎপাদিত হচ্ছে ৮৭ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৪৬ কেজি৷ কিন্তু রাজ্যে প্রক্রিয়াকরণের যে মেশিন রয়েছে তাতে ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদনে সক্ষম৷ তিনি জানান, রাজ্যে কাঁচা চা পাতা উৎপাদিত হচ্ছে ৩ কোটি ৫৮ ল৭ ৭৫ হাজার ৮৯৩ কেজি৷ সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে নিগমের বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের সদস্য মৌসুমী চক্রবর্তী, গোপাল চক্রবর্তী ও সমীর ঘোষ উপস্থিত ছিলেন৷

