নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুলাই৷৷ সিপিআইএম-এর সর্বভারতীয় নেতা সীতারাম ইয়েচুরিকে দেশদ্রোহী বলেছে বিজেপি-র ত্রিপুরা প্রদেশ

কমিটি৷ একই সঙ্গে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ণ তুলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রাত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে এই বামনেতার বিরুদ্ধে৷ বিজেপি-র তরফে আহূত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের রাজ্য সম্পাদিকা প্রতিমা ভৌমিক বলেন, মা বাবা আদর করে না রেখেছিলেন সীতারাম৷ এখন এই সীতারাম নামের বিপরীতে গিয়ে কাজ করছেন ইয়েচুরি৷ রাজ্যে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে করে যে সব অভিযোগ করেছেন তার কোনও ভিত্তি নেই৷ এমন-কি রাষ্ট্রদ্রোহীর মতো আচরণও করেছেন তিনি৷ তাঁর বয়ানে এটা স্পষ্ট৷ যদিও সেটা তাঁর এবং তাঁর পার্টির চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ মাত্র৷ তিনি বলেন, এটা ঠি, ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বেশ কয়েকটি ঘটনায় শাসকদলের নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ কিন্তু দেখা গেছে এ সব ঘটনার পেছনে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে৷ সর্বহারা নেতাদের অ্যাকাউন্টে একযোগে মোটা অঙ্কের অর্থ এসে যাওয়ার ঘটনা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ পুলিশ এ সব অনুসন্ধান করে দেখছে৷ তিনি বলেন, ইতোপূর্বে প্রত্যেকটি নির্বাচনের পর সিপিআইএম টানা সন্ত্রাস চালিয়ে গেছে৷ এ সব ত্রিপুরাবাসী ভুলে যায়নি৷ একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে বামেরা৷ ১৩ বিধানসভা এবং তার পর পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাসের নমুনা এবং বর্বরতা ভুলে যাননি ত্রিপুরাবাসী৷ এ সবের প্রতিাদ যাঁরা করেছেন তাঁরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন৷ পরিস্থিতি সে পর্যায়ে গিয়ে গিয়েছিলেন তা ভোলা যায় না৷ ভৌকি বলেন, ১৮ নির্বাচনে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একটিও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেনি৷ যদিও ক্ষমতাচ্যুত সিপিআইএম কয়েকটি স্থানে সন্ত্রাস সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়েছে৷ নির্বাচনের আগে বিজেপি-র বহু নেতা বাম সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন৷ তিনি বলেন, সীতারাম ইয়েচুরি এখন এ সব ভুলে গিয়ে বিজেপি’র উপর মিথ্যা বিভ্রান্তির অভিযোগ আনছেন৷ যদিও ত্রিপুরাকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে৷ প্রথমে পাহাড়ে খাদ্য সংকটের মিথ্যা অভিযোগ, কখনও আবার ছেলেধডা নামে গুজব রটিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা তারা করেছেন৷ তবে জনগণের সহযোগিতায় রাজ্য সরকার এ সব ব্যর্থ করে দিয়েছে৷ তাই এখন ত্রিপুরায় সন্ত্রাসের কথা বলে অস্তিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে সিবিআইএম৷ বিজেপি-র রাজ্য সম্পাদিকা প্রতিমা ভৌমিক আরও বলেন, সিপিআইএম বরাবরই দেশদ্রোহী৷ কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলে সীতারাম ইয়েচুরি নিজেকে তাঁর পার্টির সামনে আরও বড় দেশদ্রোহী হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন৷ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখন জঙ্গি কিংবা পাথরবাজদের মরলে সীতারাম ইয়েচুরিদের কষ্ট হয়, ব্যথিত হন তাঁরা৷ বরাবরই এঁরা দেশের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে গেছেন৷ এখনও তাঁদের মানসিক পরিবর্তন হয়নি৷ সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব ভট্টাচার্য, মহিল মোর্চার সভানেত্রী পাপিয়া দত্ত এবং নেতা বাহারুল ইসলাম মজুমদার৷