ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্ক আজকের দিনে কোথাও ফাঁক থেকে যাচ্ছে ঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ জুলাই৷৷ রাজ্যের চিকিৎসকরা সারা রাজ্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে দারুণভাবে কাজ করছেন৷ অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও চিকিৎসকরা যে পরিষেবা দিচ্ছেন তাতে তাদের ধন্যবাদ প্রাপ্য৷ চিকিৎসকদের এই ভূমিকায় আমিও গর্বিত৷ আজ প্রজ্ঞাভবনে জাতীয় চিকিৎসক দিবসের উদ্বোধন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ একথা বলেন৷ আজ আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় জাতীয় চিকিৎসক দিবস৷ প্রতি বছর ১ জুলাই স্বনামধন্য চিকিৎসক ভারতরত্ম ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম দিবস স্মরণে জাতীয় চিকিৎসক দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে৷ উল্লেখ্য ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের প্রয়াণ দিবসও ১ জুলাই৷

জাতীয় চিকিৎসক দিবসের উদ্বোধন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, প্রতি বছর এই জাতীয় চিকিৎসক দিবসে আমরা একত্রিত হই৷ আমাদের লক্ষ্য সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়ানোর জন্য৷ আমরা এখানে আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতাগুলি নিয়ে আলোচনা করি৷ তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ব্যর্থতায় যদি তাদের উপর আঘাত আসে তাহলে সে আঘাত সরকারের উপরও পড়ে৷ সরকারের একজন হয়ে আমিও সেই আঘাত অনুভব করি৷

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তার ও রোগীর সম্পর্ক আজকের দিনে কোথাও ফাঁক থেকে যাচ্ছে৷ তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, আপনারা এই সম্পর্কটাকে আরো সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ করুন৷ তাহলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে৷ চিকিৎসকরা রাজ্যের নানা প্রান্তে অত্যন্ত দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে কাজ করছেন৷ প্রতিবছর এই সময়ে রাজ্যের পাহাড়ে ম্যালেরিয়ার দাপটে অনেক জীবনহানি ঘটে৷ এবার সেই সমস্যা নেই বললেই চলে৷ এর মোকাবিলা রাজ্যের চিকিৎসকরা করেছেন৷ এই কৃতিত্বও আপনাদের৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক সমাজকে আমাদের সমাজ শ্রদ্ধার চোখে দেখে৷ আপনারা মানুষের জীবন দান করেন৷ চিকিৎসকরা ভুল চিকিৎসা করে মানুষ মেরে ফেলেছেন৷ এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়৷ আমরা এই মানসিকতার পরিবর্তন চাই৷ তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসকদের সমস্যা দূর করতে বদ্ধপরিকর৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন আগামী দিনে চিকিৎসকরা আরো বেশী দায়বদ্ধতার আত্মবিশ্বাস অর্জন করে আরও উন্নত পরিষেবা প্রদানে এগিয়ে আসবেন৷ রাজ্য সরকারও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে৷ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে ত্রিপুরা সারা দেশে একটা নজির সৃষ্টি করবে আগামী দিনে৷

আজ প্রজ্ঞাভবনে শ্রদ্ধায় ও স্মরণে উদযাপিত হল জাতীয় চিকিৎসক দিবস৷ শুরুতে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন৷ তারপর রাজ্যে সদ্য প্রয়াত চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা ও জাতীয় চিকিৎসক দিবস উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ সুভাশীষ দেববর্মা৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী হিতকামানন্দ মহারাজ বলেন, চিকিৎসকরা আমাদের জীবন দান করেন৷ তারা আমাদের কাছে শ্রদ্ধার ব্যক্তি৷ কোন চিকিৎসক ইচছাকৃতভাবে রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা করতে পারেন না৷

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব সমরজিৎ ভৌমিক, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা এন ডার্লং, মেডিক্যাল এডুকেশনের অধিকর্তা চিন্ময় বিশ্বাস, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন অধিকর্তা শৈলেশ কুমার যাদব৷ সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ডা জে কে দেব ভার্মা৷ অনুষ্ঠানে চিকিৎসা পরিষেবায় জীবনব্যাপী অবদানের জন্য ১২ জন চিকিৎসককে সংবর্ধনা জানানো হয়৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়ম বর্মণ স্মারক উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানান৷ সংবর্ধিত চিকিৎসকরা হলেন, ডাঃ সুশীলা দেবী, ডাঃ প্রিয় রঞ্জন লস্কর, ডাঃ বিনয় ভূষণ ভৌমিক, ডাঃ রাম মোহন সরকার, ডাঃ উদ্দীপন্ত নারায়ণ রায়, ডাঃ গুরুসদয় চৌধুরী, ডাঃ ধীরেন্দ্র চন্দ্র পোদ্দার, ডাঃ রাম গোপাল সাহা, ডাঃ কিশলয় চৌধুরী, ডাঃ শিবেন্দু মোহন দাস, ডাঃ নিতীশ চন্দ্র সরকার ও ডাঃ বুদ্ধ চন্দ্র সিংহ চৌধুরী৷ তাছাড়াও অনুষ্ঠানে চিকিৎসার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ এবার চিকিৎসা বিভাগে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ডাঃ শৌভিক দেববর্মা ক্লিনিকেলে ডাঃ ধৃতমান দত্ত এবং একাডেমিক ক্ষেত্রে ডাঃ তপন মজুমদার ও ডাঃ জয়ন্ত রায়কে সংবর্ধনা জানানো হয়৷

জাতীয় চিকিৎসক দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরও আজ পুরসৃকত করা হয়৷ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন এ জি এম সি-র কুশল দেববর্মা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন শালিনি ভৌমিক (এ জি এম সি) ও অমৃত পাল সিং (টি এম সি)৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *