ফের উত্তেজনা কাসগঞ্জে, পোড়ানো হল বেশ কয়েকটি দোকান

লখনউ, ২৮ জানুয়ারি (হি.স.) গোষ্ঠী সংঘর্ষে রবিবারও উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ। কাসগঞ্জের নাদরাই গেট এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে এদিন অগ্নি সংযোগ করা হয়। গোটা কাসগঞ্জ জুড়ে জারি করা করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। অপপ্রচার এড়াতে রাত ১০টা পর্যন্ত সারা কাসগঞ্জে জুড়ে ইন্টারনেট, মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। প্রশ্ন উঠছে পুলিশের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কি করে এদিন ওই দোকানগুলিকে অগ্নিসংযোগ করা হল। দুষ্কৃতিদের গ্রেফতার করার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোটা এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত কাসগঞ্জে গোষ্ঠী সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জেলাশাসক আরপি সিং বলেছেন, কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ষড়যন্ত্র করেই এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে কাসগঞ্জে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পাঁচ কোম্পানি পিএসি এবং দুই কোম্পানি ব়্যাফ। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিস বাহিনীও রয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় প্রজাতন্ত্র দিবসে হওয়া হিংসার ঘটনায় পুলিশ শনিবার ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়| এর মধ্যে ৩৯ জনকে দাঙ্গা ছড়ানোর জন্য এবং ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়| এছাড়াও, প্ররিস্থিতি মোকাবিলায় এখনও পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়| পাশাপাশি ওই এলাকায় পুলিশ এবং ব়্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে|
শনিবার পূর্ত দফতরের বৈঠকে এসে উপমুখ্যমন্ত্রী এবং লোকনির্মান বিভাগের মন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রজাতন্ত্র দিবসে কাসগঞ্জে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক| শুক্রবার এবং শনিবার কাশগঞ্জে উত্তেজনা যারা ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইন মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে| উত্তেজনা ছড়ানো কোনও ব্যক্তিকে রেয়াত করা হবে না|
উল্লেখ্য, শুক্রবার অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবসে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের বাইক মিছিলে হিংসার ঘটনায় এক ১৬ বছর বয়সের বলকে মৃত্যু হয়| এছাড়াও জখম হন আরও দুইজন| এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়| জারি করা হয় কার্ফু| কিন্তু তার মধ্যেই ফের শনিবার সেই উত্তেজনা মাথা চারা দেয়| উত্তেজনার জেরে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় দু’টি দোকান| পড়ানো হয় একটি গাড়ি| এদিকে ওইদিন নিহতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর ফের উত্তেজনা ছড়ায়। দুই গোষ্ঠির গুলি চালনার ঘটনায় নিরাপরাধ চন্দন নামে এক বালকের মৃত্যু হয়| উত্তেজনা সামলাতে ৫ ব্যাটেলিয়ান পিএসি এবং এক ব্যাটেলিয়ন ব়্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে|
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, কাসগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে শুক্রবারের হিংসায় জড়িত থাকার ব্যাপারে এপর্যন্ত ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের তল্লাশি শুরু হয়েছে|