পৃথক রাজ্যের দাবীতে আজ শুরু আইপিএফটির অনির্দিষ্টকালীন রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/তেলিয়ামুড়া, ৯ জুলাই৷৷ পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের দাবীতে আগামীকাল থেকে শুরু হতে চলা আইপিএফটির অনির্দিষ্ট-কালীন জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধকে সামনে রেখে উত্তেজনার পারদ চরছে৷ ইতিমধ্যেই দূর দূরান্ত থেকে বহুসংখ্যক উপজাতি যুবক বড়মুড়া পাহাড়ের খামসিং বাড়িতে এসে জড়ো হয়েছে৷ আগামীকাল সকাল থেকে এই অনির্দিষ্ট কালীন অবরোধ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে৷ জানা গেছে, বড়মুড়া পাহাড়ের ভেতর বিভিন্ন স্থানে আইপিএফটি কর্মী-সমর্থক যুবারা তাদের আস্তানা গেড়েছে৷ পুলিশ এবং অন্যান্য সুরক্ষা কর্মীদের জ্ঞাতসারেই এই জমায়েত শুরু হয়েছে৷ কয়েকটি স্থানে সমাগত আইপিএফটি কর্মী সমর্থকদের খাওয়া দাওয়া এবং রাত্রিবাসের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করাও হয়েছে৷ জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার পুলিশ প্রশাসনের আধিকারীকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন৷ বৈঠকে পুলিশ মহা নির্দেশক ছাড়াও মুখ্য সচিবকে ডাকা হয়েছিল৷ জানা গেছে, খোয়াই জেলার জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারকে সর্র্বেচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছে৷ কোন এলাকাতেই যাতে কোন ধরনের অশান্তি না হয় তার জন্য সুরক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ প্রশাসনের আধিকারিকদেরও সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছে৷ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, অত্যাবশ্যক পণ্য সামগ্রী রাজধানীতে নিয়ে আসার জন্য বিকল্প সমস্ত পথ গুলি খোলা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷
এদিকে, আইপিএফটির সভাপতি এন সি দেববর্মা রবিবার খামতিং বাড়িতে অবরোধ আন্দোলনস্থলে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন৷ তিনি জানিয়েছেন, প্রায় চল্লিশ হাজার কর্মী সমর্থক এই অবরোধ আন্দোলনে শামিল হবেন৷ খামতিংবাড়িতেই শুধু অবরোধ হবে জাতীয় সড়ক৷ তাছাড়া ঐ এলাকারা কাছাকাছি রেল লাইনে অবরোধ করা হবে৷ রাজ্যের প্রায় প্রত্যেক দলীয় বিভাগ থেকেই কর্মী সমর্থকরা আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন৷ বড়মুড়া এলাকায় আই পি এফ টি কর্মী সমর্থকদের আগমনের জেরে বিভিন্ন যানবাহন তেলিয়ামুড়া থেকে খোয়াই হয়ে আগরতলায় পাঠানো হচ্ছে এবং আগরতলা থেকে আগত গাড়ি খয়ের পুর থেকেই ঘুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে৷ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড়মুড়া এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ৷ টিএসআর বাহিনী৷
এদিকে, জাতীয় সড়ক এবং রেল পথের অবরোধের ডাকে রবিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মিশ্র বসতি পূর্ণ এলাকায় উত্তেজনার পারদ চরতে শুরু করেছে৷ উত্তেজনা প্রবণ বেশ কিছু এলাকায় যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নামানো হয়েছে৷ বেশ কিছু এলাকা থেকে আইপিএফটি’র সমর্থক উপজাতি অংশের জনগণ বড়মুড়া পাহাড়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া অসম আগরতলা সড়ক অবরোধের জন্য আজই রওনা দিয়েছে৷ সোমবার দশ জুলাই থেকে আইফিএফটির পথ অবরোধ আন্দোলনের ঘোষণা ঘিরে রাজ্য প্রশাসন আরও আগেই কঠোর সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে৷ পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে দেখেছেন৷ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের তরফে আগাম কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷ চম্পকনগর পুড়িশ ফাঁড়িতে এবং তেলিয়ামুড়া, আমবাসা, মনু, গন্ডাছলা সহ জাতীয় সড়কের পাশ্ববর্তী থানার নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ ত্রিপুরাকে ভাগ করে উপজাতিদের জন্য তুইপ্রাল্যান্ডের দাবীতে আইপিএফটি ১০ জুলাই থেকে লাগাতর জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল অবরোধ আন্দোলনের বিষয়টিকে সামনে রেখে রাজ্যের সবকটি থানাকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে৷ সড়কে পুলিশি টহলদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ আন্দোলন কালে বিকল্প কুমারঘাট-কমলপুর-খোয়াই-আগরতলা সড়কে যাতে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারে সেজন্য বিকল্প সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হবে৷ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে পেট্রোল, ডিজেল পরিবাহী ট্যাংকারগুলিকে আন্দোলন চলাকালীন বিকল্প সড়ক দিয়ে আগরতলায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ মিশ্র বসতি এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সতর্ক নজরদারি ও টহলদারি জারি রাখতে থানা পুলিশ, টিএসআরকে বলা হয়েছে৷
পৃথক তুইপ্রাল্যান্ডের দাবিতে আই পি এফ টি ১০ জুলাই তথা সোমবার থেকে জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের ডাক দিয়েছে৷ এই অবরোধের ডাক হঠকারী এবং রাজ্যের শান্তি-সম্প্রীতি বিরোধী বলে দাবি শাসক দল সিপিআই(এম)-র৷ আর এই অবরোধ প্রত্যাহার তথা বর্জনের আওয়াজে গোটা রাজ্য সরগরম৷ দলে দলে লোক রাস্তায় নেমে আই পি এফ টি’র এই ঘৃন্য রাজনীতির ধিক্কার জানাচ্ছে৷ রাজ্যের গ্রাম পাহাড়, সমতল এবং শহরে প্রচারভিযান সংগঠিত করছে সিপিআই(এম) দলের নারী সংগঠন থেকে শুরু করে ছাত্র-যুব সংগঠন সবাই আই পি এফ টি’র অবরোধ আন্দোলনের প্রতিবাদে ময়দানে অবতীর্ন৷ জাতি উপজাতির একতা-রাজ্যের অখন্ডতা রক্ষা করতে দিকে দিকে সরব বাম আন্দোলন৷ ধিক্কার মিছিল, পথসভা চলছে৷
আই পি এফ টি’র এই অগণতান্ত্রিক অবরোধ আন্দোলনের পেছনে বিজেপি-র হাত রয়েছে বলে দাবি শাসক দল সিপিআই(এম) নেতৃত্বের৷ এই বিছিন্নতা শক্তিকে জনবিচ্ছিন্ন করার আহ্বানে গোটা রাজ্যে ব্যাপক প্রচার আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে৷ জনগণের শক্তিকে আরো সংহত করে রাজ্য ভাগের চক্রান্ত ভেস্তে দেয়ার ডাক দিয়েছে সিপিআই(এম)৷ তাদের অভিযোগ সাম্প্রদায়ীক দল বিজেপি আই পি এফ টি-কে মদত যোগাচ্ছে৷ তাদেরকে সামনে রেখে রাজ্যে নৈরাজ্য কায়েম করতে মরিয়া বিজেপি৷
রাজধানী শহর আগরতলা সহ উদয়পুর, খোয়াই, কল্যাণপুর, বিশালগড়, বিলোনীয়া, ধর্মনগর, গন্ডাছলা প্রতিটি মহকুমা শহরই উত্তপ্ত সিপিআই(এম)-র প্রতিবাদ আন্দোলনে৷ বিভেদের রাজনীতি প্রতিহত করতে এই রাজ্যের সকল অংশের মানুষকে গর্জে উঠার আহ্বান জানিয়েছে শাসক দল সিপিআই(এম)৷ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও একাধিক বিবৃতিতে অবরোধ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়৷ তবে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন রাজ্যের তথাকথিত পরিবর্তন কামী বিজেপি দল অবরোধ প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোন শব্দ করেনি৷ সঙ্গত কারনেই আই পি এফ টি’ এবং বিজেপি-র সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ণ উঠেছে৷