পৃথক বোড়োল্যান্ডের বিরোধিতা, ২২ এপ্রিল ‘অসম বনধ’-এর ডাক

ওদালগুড়ি (অসম), ২০ এপ্রিল, (হি.স.) : একদিকে যেমন বোড়োল্যান্ডের জোরদার দাবিতে ধারা আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে নিখিল বোড়ো ছাত্র সংস্থা (আবসু), এনডিএফবি (প্র) এবং পিপল জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বড়োল্যান্ড মুভমেন্ট; অন্য দিকে পৃথক বোড়োল্যান্ডের দাবির বিরুদ্ধাচরণ করে ফের পালটা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে অবোড়ো সুরক্ষা সমিতি অসম। সেই হিসাবে আগামী ২২ এপ্রিল অসম বনধ-এর ডাক দিয়েছেন এই সংগঠনের কর্মকর্তারা।
তাঁদের দাবি পূরণে সরকারি টালবাহানা ও গরিমসির অভিযোগ তোলে মস্তক মুণ্ডন করে গত ১৩ তারিখ বৃহস্পতিবার ‘প্রতারণা দিবস’ কর্মসূচি পালন করেন পৃথক বোড়োল্যান্ডের দাবিদার তিন সংগঠনের কর্মকর্তারা। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৫ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টার ওদালগুড়ি বনধের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। তাছাড়া আগামী ২০ মে থেকে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে বলে নিখিল বোড়ো ছাত্র সংস্থা (আবসু), এনডিএফবি (প্র) এবং পিপল জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বড়োল্যান্ড মুভমেন্টের নেতারা জানিয়েছিলেন।
এদিকে অবোড়ো সুরক্ষা সমিতি অসম-এর সম্পাদক তথা মুখপাত্র যোগেশ্বর কলিতা জানিয়েছেন, বোড়োল্যান্ড টেরিটরিয়াল এরিয়া ডিস্ট্রিক্ট (বিটিএডি)-এর ২৪ লক্ষ অবোড়োদের সংগ্রামকে তাচ্ছিল্য করে কেন্দ্রীয় এবং অসম সরকার বোড়ো সংগঠন আবসু-র আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কেবলমাত্র এনডিএফবি জঙ্গিদের ভয়েই আবসু-দের তাদের দাবি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য। কলিতা জানান, ২০০৩ সালেও একইভাবে অবোড়োদের সংগ্রামকে নস্যাৎ করে তদানীন্তন সশস্ত্র বিএলটি-র বন্দুকের ভয়ে তাদের দাবি মেনে বোড়োল্যান্ড টেরিটরিয়াল কাউন্সিল( বিটিসি) গঠন করা হয়েছিল। সে সময় বিটিএডি-র অন্তর্ভুক্ত অবোড়ো সম্প্রদায়ের কতিপয় ব্যক্তিকেও সশস্ত্র উগ্রপন্থীর হাতে তোলে দেওয়া হয়েছিল। যার পরিণতিতে বিটিএডি এলাকায় অবোড়োদের জমি, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ভাষা-সংস্কৃতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় তাঁরা এই সংকট থেকে মুক্ত হতে বিটিএডি অঞ্চল থেকে অবোড়ো অধ্যুষিত এলাকা কর্তন এবং পৃথক বোড়োল্যান্ডের বিরোধিতা করছেন, জানান অবোড়ো সুরক্ষা সমিতি অসম-এর সম্পাদক যোগেশ্বর কলিতা।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৩ সালে ভারতীয় সংবিধান সংশোধন করে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এক চুক্তি করে মাত্র ২৩ শতাংশ বোড়ো এবং ৭৭ শতাংশ অবোড়ো জনবসতি সংবলিত রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বোড়োল্যান্ড স্বশাসিত পরিষদ (বিটিসি) নামে একটি পরিষদ গঠন করে সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ এতে অবোড়োদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে জানিয়ে কলিতা বলেন, ‘তদানীন্তন অসমের রাজ্যপাল জেবি পট্টনায়ক বিটিএডি থেকে অবোড়ো গ্রামগুলিকে ছেঁটে ফেলার ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছিলেন রাজ্য সরকারকে। এরপর রাজ্য রাজনীতিতে বহু জল গড়ালে্ও এখন পর্যন্ত এ-ব্যাপারে কোনও সরকারই ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি।’
এখানে উল্লেখ করা ষেতে পারে, বিটিএডি থেকে অবোড়ো অধ্যুষিত এলাকাগুলি কর্তন এবং বিটিসি চুক্তির পুনঃপর্যবেক্ষণের দাবিতে গত ২০ অক্টোবর ২৪ ঘণ্টার অসম বনধ-এর ডাক দিয়েছিল অবোড়ো সুরক্ষা সমিতি অসম।