নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর, ৭ এপ্রিল৷৷ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদয়পুরের টেপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা সুন্দরী জেলা হাসপাতালে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়৷ ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে হাসপাতালের আসবাবপত্রে৷ মারধর করা হয়েছে রোগীর নিকটাত্মীয় থেকে শুরু করে নিরাপত্তা রক্ষী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, হাসপাতাল কতৃপক্ষের তরফে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷
সংবাদে প্রকাশ, উদয়পুর পুর পরিষদের এক নং ওয়ার্ড তথা গোমতী নদীর পাড়ে ছনবন এলাকার বাসিন্দা ফজর আলির ছেলে ফারুক হুসেন (১৪) এদিন ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে৷ তার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরেই এই উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়৷ এদিন সকালে ফারুক বায়না করে যে তার পিসির বাড়িতে বেড়াতে যাবে৷ মা বাবা তাকে বলে যে কিছুদিন পর পিসির বাড়িতে নিয়ে যাবে৷ মা বাবার এই কথায় সে মনোক্ষুন্ন হয়৷ মা তাকে খাবার দিয়ে ক্ষেতে কাজ করতে চলে যায়৷ অন্যদিকে বাবা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায় রুজিরুটর জন্য৷ বাড়িতে তখন একাই ছিল৷ কিছুক্ষণ পরে মা বাড়িতে আসে৷ দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে৷ তাতে কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি ঘরের পেছনের দিকের একটি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন ঘরের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে ফারুক৷ সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চিৎকার চেচামেচি শুরু করেন৷ আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন৷ দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে দেখেন ফারুকের দেহ ঝুলছে ফাঁসিতে৷ খবর দেওয়া হয় আর কে পুর থানায়৷ খবর পাওয়ার দীর্ঘ এক ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ৷ এদিকে পুলিশের বিলম্বে আসার ঘটনায় গোটা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়৷ এলাকাবাসীর দাবী পুলিশ যদি যথাসময়ে ঘটনাস্থলে আসত তাহলে হয়তো ফারুককে জীবিত উদ্ধার করা যেত৷ পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে গাড়ি না থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বিলম্ব হয়৷ তারপর এলাকাবাসী অন্য একটি গাড়িতে করে ফারুককে টেপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা সুন্দরী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর দেখা দেয় আরও এক বিপত্তি৷ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় কেন প্রাইভেট গাড়িতে করে ফারুককে আনা হয়েছে হাসপাতালে৷ পুলিশের গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে করে কেন আনা হয়৷ এই ধরনের নানাহ প্রশ্ণ করতে থাকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা৷ তারপর যখন চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান যে ফারুককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহত কিশোরের আত্মীয় পরিজনরা৷ প্রথমে বাক বিতন্ডা হয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে৷ তারপর বেসরকারী নিরাপত্তা রক্ষীরা এগিয়ে আসলে শুরু হয়ে মারধর৷ মুহুর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে গোটা হাসপাতাল৷ বেপরোয়া ভাবে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই মারধর করতে তাকে নিহত ফারুকের নিকটাত্মীয়রা৷ বাদ যায়নি অন্যান্য রোগীর নিকটাত্মীয়রাও৷ ভাঙচুর চালানো হয়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন সামগ্রী৷ খবর পেয়ে আর কে পুর থানার পুলিশ বিশাল টিএসআর বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন৷ পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে৷ পরে ময়নাতদন্ত করে মৃতদেহ নিকটাত্মীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, নিহত ফারুক হুসেন স্থানীয় একটি সুকলের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল৷ তাঁর মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়েছে৷
2017-04-08

