চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের মনোবল চাঙ্গা করতে বিজন ধরেরও টনিক সরকার পাশে আছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ মার্চ৷৷ চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের পরিণতি কি হবে সে বিষয়ে ঝেড়ে কাঁশেননি সিপিএম রাজ্য

শুক্রবার বিবেকানন্দ ময়দানে সিপিএমের জনসভায় বক্তব্য রাখেন দলের রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিজন ধর৷ ছবি নিজস্ব৷

সম্পাদক বিজন ধর৷ এই লড়াই আইনীভাবেই লড়তে হবে বলে তিনি সকলকে আশ্বাস দেন৷ তাতে, পরিণতি কি হতে পারে স্পষ্ট করে বলতে পারলেন না বিজনবাবু৷ শুক্রবার আগরতলায় বিবেকানন্দ ময়দানে ৫ দফা দাবিতে সিপিএম পশ্চিম জেলা কমিটির সমাবেশে তিনি এইভাবে নানা কায়দায় চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে আশার আলো জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন৷ পাশাপাশি প্রকাশ্যে আদালতের রায় অমানবিক বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷
এদিন, জনসভায় বিজনবাবু বলেন, শিক্ষকদের চাকুরী বাতিলের আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অমানবিক৷ তবে, এই রায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না৷ কিন্তু, এটা ঠিক এই রায়ে শুধু ১০৩২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হলেন এমনটা নয়৷ তাঁদের সঙ্গে পরিবারের লোকরাও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত৷ তিনি মনে করেন, রাজ্যের বৃহত্তর অংশের জনগণ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এই রায়ে প্রভাবে পড়বেন৷ কারণ ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকুরী বাতিল হলে তারা হলে রোজগারহীন হয়ে পড়বেন৷ এর প্রভাব রাজ্যের বাজারেও পড়বে৷ তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, চাকুরী বাতিল হওয়ায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷ রাজ্যব্যাপী আর্থিক লেনদেনে সমস্যা হয়ে যাবে৷ ফলে, শিক্ষকদের পাশাপাশি অন্যান্যদের উপরও প্রভাব অবশ্যম্ভাবি৷ এদিন তিনি দাবি করেন, এই রায়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় অরাজকতার সৃষ্টি হতে চলেছে৷ সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে৷ তাঁর আরও দাবি, এই শিক্ষকদের রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা ছিল৷
বিজনবাবু এদিন ক্ষোভের সুরে বলেন, যারা মামলা করেছেন তারা চাকুরী দিতে পারেন না৷ কেন্দ্রীয় দপ্তরে চল্লিশ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে৷ অথচ তা পূরণে কোন ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে না৷ কটাক্ষের সূরে তিনি বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস আনন্দে বাজি পুড়াচ্ছে৷ মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে৷ তিনি বলেন, আদালতের এই রায় নিয়ে বিরোধী দলগুলি যে রাজনীতি শুরু করেছে তা মোটেও কাম্য নয়৷ বিরোধীরা মিছিল করে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে৷ চাকুরীচ্যুতদের আত্মহত্যার প্ররোচনা দিচ্ছে৷ আবার, কেউ আত্মহত্যা করলে এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী দায়ী থাকবে বলে তারা হুমকি দিচ্ছে৷ বিরোধীদের এই আচরণ দুর্ভাগ্যজনক বলে বিজনবাবু মন্তব্য করেন৷ পাশাপাশি সচেতন থাকতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন সকলকে৷
এদিন তিনি চাকুরীচ্যুতদের আশ্বস্ত করে বলেন, রাজ্য সরকার ১০৩২৩ জন শিক্ষকের পাশে রয়েছে৷ তাদের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করবে৷ এই লড়াই আইনীভাবেই লড়তে হবে৷ তাই রাজ্য সরকারের উপর আস্থা রাখতে হবে৷ ফলে, তাদের সুকলে যাওয়া বন্ধ করলে চলবে না৷
এদিকে, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রের গৃহিত নীতির বিরুদ্ধে এবং রেগা প্রকল্পে ২০০ দিনের কাজ ও কেন্দ্রীয় দপ্তরগুলির সমস্ত শূন্যপদ পূরণ সহ পাঁচদফা দাবীতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক৷ পাশাপাশি বামফ্রন্টকে হঠানো হলে ত্রিপুরায় সন্ত্রাসাবাদীদের দৌরাত্ম্য আবারও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, রাজ্যে সন্ত্রাসবাদীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে৷ কিন্তু, এখন নানাভাবে আবার অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে৷ উগ্রবাদীরা নানাভাবে তাদের ক্ষমতাবৃদ্ধির চেষ্টা করছে৷ আর তাদের মদত দিচ্ছে অনেক দল, নাম না করে বিরোধীদের কটাক্ষ করেছেন বিজন ধর৷