নয়াদিল্লি, ২৭ ডিসেম্বর (হি.স.) : নোট বাতিল নিয়ে আট দলের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কার্যত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ দাবি উঠল| রাহুল গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে নোট বাতিল নিয়ে মঙ্গলবার দিল্লিতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | কার্যত মোদী সরকারের পদত্যাদের দাবি তুলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী| নোট বাতিল হয়রানির সুরাহা করতে ৫০ দিন সময় চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী| সময় প্রায় শেষ| মমতার প্রশ্ন, ৫০ দিন পরে সমস্যার সমাধান না হলে আপনি কি পদত্যাগ করবেন?
এদিন শুরুটা করেছিলেন রাহুলই| কংগ্রেস সহ সভাপতি বলেন, নোট বাতিলের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে| দুর্নীতি এবং নোট বাতিল এখন সমার্থক হয়ে পড়েছে| এখনও দুর্ভোগ মেটেনি| এর দায় কার? এ সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে| এরপরেই চাঁচাছোলা ভাষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন মমতা|
৮ নভেম্বর নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী | তারপর থেকেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি| লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলি এককাট্টা হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়| ভেস্তে যায় অধিবেশন| এরপরের পদক্ষেপ কী হবে তা ঠিক করতে একযোগে ফের একবার বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয় বিরোধীদলগুলি| তাতে ডিএমকে এবং আরজেডি থাকলেও, বাম দলগুলি, নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল ও শরদ পওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) আসেনি| গরহাজির ছিল সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টিও (বিএসপি)| তবে বৈঠকে যোগ দিতে গতকালই দিল্লি পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী| প্রথমে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা ভাবলেও পরে নিজে যাবেন বলে ঠিক করেন তিনি| আজ দিল্লির কনস্টিটিউশন হলে ৮টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়| মোদী সরকারের নোট বাতিল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ দিন যৌথ ভাবে বৈঠক করেন বিরোধীরা|
ওই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ দিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সিআরপিএফ দিয়ে আয়কর হানা দেওয়ানো হচ্ছে| আচ্ছে দিনের নামে দেশ লুঠ চলছে| একের পর এক নেতাদের ভয় দেখানো হচ্ছে| গ্রেফতারের জুজু দেখানো হচ্ছে| এক বার দেওয়া হচ্ছে সনিয়াকে পাকড়াও করার হুমকি| আর এক বার হুমকি দেওয়া হচ্ছে মমতাকে| আবার লালুপ্রসাদ যাদবকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে| এ সব কী চলছে? ক্যাশলেসের নামে মোদী সরকারই আসলে ফেসলেস হয়ে গিয়েছে| প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার ফলে দেশের সব উন্নয়ন থমকে গিয়েছে| সরকার দুর্বল, কোনও কাজই ঠিকমতো হচ্ছে না| গত ৪৯ দিনে ২০ বছর পিছিয়ে গিয়েছে দেশ| মানুষ খেতে পারছে না| সব উন্নয়ন থমকে গেছে| রবি, খারিফ শস্য চাষ আটকে গিয়েছে| নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত বিরাট এক দুর্নীতি| ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ভেঙে পড়েছে| ব্যাঙ্কের উপর থেকে মানুষেরা আস্থা চলে যাচ্ছে| যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের করার কথা ছিল, তা আপনি করেছেন| আপনি রাজনীতিক| সরকার আসে, সরকার যায়| তাই রাজনীতিক হিসাবে এ কাজ করা আপনার উচিতই হয়নি| দেশে জরুরি অবস্থা নয়, চলছে অতিজরুরি অবস্থা| তাই এই অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচােত যত দূর যেতে হয়, আমরা যাব বলে ফের হুমকী দেন মমতা|
এদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের জোড়া লাগানোর কাজও কৌশলে সারলেন মমতা| বললেন, ইন্দিরা গান্ধী ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ করে ব্যাঙ্কের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়েছিলেন| রাজীব গান্ধী দেশে টেলিকম ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছিলেন| এখন সরকার নগদহীন লেনদেনের কথা বলছে| ক্যাশলেস হতে গিয়ে ফেসলেস হয়ে গিয়েছেন মোদি| সরকার দুর্বল হলে দেশ দুর্বল হয়ে যায়|