নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ ডিসেম্বর৷৷ বিধানসভায় অধ্যক্ষের ন্যায় দন্ড ছিনিয়ে পালালেন তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায়

বর্মণ৷ নারী কেলেঙ্কারি অভিযোগে বিধানসভা অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠে৷ সোমবার অধিবেশনের শূন্যকালে বিরোধী বেঞ্চের সদস্যরা বনমন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া এডিসির এমডিসি জয়কিশোর জমাতিয়া এবং পুরনিগমের কাউন্সিলার মৃন্ময় সেন ওরফে খোকন বৈষ্ণবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোচ্চার হন৷ তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বনমন্ত্রী নরেশ জমাতিয়ার বিরুদ্ধে কেচ্ছা কাহিনী বিধানসভায় তুলে ধরে তাঁকে বরখাস্ত করার দাবি জানান৷ পাশাপাশি অভিযোগ করে বলেন, পক্সো আইনে মামলা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশের সহযোগিতায় পুর নিগমের কাউন্সিলার মৃন্ময় সেন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন৷ এদিকে, বনমন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খন্ডন করে দাবি করেন তাঁকে কালিমালিপ্ত করার জন্যই মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে৷ তিনি জোর গলায় বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটানো হচ্ছে৷ আর এজন্যই তিনি আদালতে জয়কিশোর জমাতিয়া এবং স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন৷ তখন বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান৷ মুখ্যমন্ত্রী পুর নিগমের কাউন্সিলারের জামিন পাওয়ার বিষয়ে বলেন, পুলিশের রেকর্ডের সাথে সামঞ্জস্য না থাকলে [vsw id=”sp3_Zfam_D8″ source=”youtube” width=”425″ height=”344″ autoplay=”yes”]আদালতে নিশ্চয়ই এর ব্যবস্থা হবে৷ নরেশ জমাতিয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা হয়নি৷ বরং তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন৷ নরেশ জমাতিয়ার সাহস আছে বলেই তিনি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন৷ ফলে, এই মামলায় রায় কি হয় সেটা দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে৷ এই কথা শুনে অধ্যক্ষ এই ইস্যুতে আলোচনা করার বিরোধীদের দাবি খারিজ করে দেন৷ তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিরোধী বেঞ্চের সদস্যরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷ এক সময় তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ অধ্যক্ষের ন্যায়দন্ড ছিনিয়ে নিয়ে বিধানসভার বাইরে দৌড়ে চলে যান৷ হঠাৎ এই ঘটনায় রাজ্য বিধানসভা স্তম্ভিত হয়ে পড়ে৷
এবিষয়ে বিধানসভায় নিজ কক্ষে অধ্যক্ষ বলেন, বিধানসভার সদস্য হিসেবে সুদীপবাবু কাজটা ঠিক করেননি৷ ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধী বেঞ্চ উভয় দিকেরই বিধানসভায় সমান আইনগত অধিকার রয়েছে৷ সুদীপ বাবু ঐ ইস্যুতে আলোচনার জন্য কোন নোটিশ দেননি৷ আর রাজ্য বিধানসভার নিয়ম অনুসারে শূন্যকালে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার কোন বিধান নেই৷ ফলে, বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে সুদীপ বাবু যে কাজ করেছেন সেটা সংবিধান বর্হিভূত৷ এদিকে, অধ্যক্ষের ন্যায় দন্ড ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, বিধানসভায় ন্যায় পাওয়া যায় না৷ তাই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি৷ এদিন সভা পুনরায় শুরু হলে অধ্যক্ষ রমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ আগামীদিনে এধরনের কাজ না করার জন্য বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণকে সতর্ক করেন৷ পাশাপাশি ন্যায়দন্ড ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অধ্যক্ষ নিন্দা জানান৷