সামাজিক ভাতা প্রচারে নিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের ঃ মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, উদয়পুর, ২১ নভেম্বর৷৷ রাজ্য সরকার রাজ্যের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক ভাতা

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷

প্রদান করছে৷ কিন্তু এই সামাজিক ভাতার বিষয়ে জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচারের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে৷ এজন্য সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রচার কর্মসূচী নিতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে৷ আজ অমরপুর ডাকবাংলোয় অনুষ্ঠিত অমরপুর মহকুমা ভিত্তিক পর্যালোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তিনি বনে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের কল্যাণে রাজ্য সরকার যে সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তা মানুষকে বুঝিয়ে বলতে হবে৷ এই প্রচারের দায়িত্ব নিতে হবে জনপ্রতিনধিদেরই৷ এছাড়াও, বয়স এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে যারা ব্যাঙ্কে গিয়ে ভাতার টাকা তুলতে পারছেন না তাদের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের ফলে এবং ব্যাঙ্কগুলোতে খুচরো টাকার অপ্রতুলতার কারণে সামাজিক ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে৷ এ বিষয়ে গোমতী জেলার জেলা শাসককে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছেন তিনি৷ পাশাপাশি অর্থ দফতরকেও নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্য স্তরে ব্যাঙ্কগুলোর সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে৷ সভায় সমাজ শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অমরপুর মহকুমায় ২১৮ জন ভাতা প্রাপক আছেন যাদের বাড়িতে গিয়ে ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে৷ এছাড়াও সমগ্র মহকুমায় বিভিন্ন ধরণের মোট ভাতা প্রাপকের সংখ্যা হল ৯২৬২ জন যাদের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হয়েছে৷
অমরপুর মহকুমা ভিত্তিক এই পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক ভাতা প্রদান ছাড়াও সড়ক যোগাযোগ,পানীয় জল সরবরাহ, বৈদ্যুতিকরণ, শৌচালয় নির্মাণ, জলসেচ, বাসগৃহ নির্মাণ প্রভৃতি বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন৷ উল্লেখ্য, অমরপুর মহকুমায় দুটি ব্লক, অমরপুর ও অম্পি ব্লক৷ নগর পঞ্চায়েত আছে একটি, অমরপুর নগর পঞ্চায়েত৷
পর্যালোচনা সভায় পূর্ত দফতরে পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহকুমায় মোট ৩৫৩টি জনবসতির মধ্যে ৩২৭টিকে ইতিমধ্যেই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে৷ বাকি আছে, ২৬টি বসতি, যেগুলোকে ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে সড়কের সঙ্গে যুক্ত করনেত ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ পি এম জি এস ওয়াই-এর রাস্তাগুলোর সারাইয়ের দায়িত্বে রয়েছে এন বি সি সি৷ মুখ্যমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকে এই রাস্তা সারাইয়ের কাজে গুণমান বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে৷ এছাড়াও গ্রামোন্নয়ন দফতর ও স্বাশাসিত জেলা পরিষদের মাধ্যমে এম জি এন রেগার সাহায্য ১৫টি নতুন রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ উদয়পুর থেকে অমরপুর পর্যন্ত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ২৪৫ কিলোমিটার৷ এই রাস্তাটিকে জাতীয় সড়ক হিসেবে ঘোষণা দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে পূর্ত দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ রাঙামাটিতে গোমতী নদীর উপর নির্মীয়মান সেতুটির কাজ ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে৷ মহকুমায় জলসেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেস দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এখানে জমি যথেষ্ট উর্বর৷ ঠিকমতো জলসেচের ব্যবস্থা করতে পারলে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে৷ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেশ কিছু এল আই স্কিম বন্ধ হয়ে আছে বিদ্যুতের ট্রান্সমিটারের কারণে৷ এই মরশুমেই কৃষকরা যাতে সেচের জল পেতে পারেন সেজন্য এই স্কিমগুলো চালু করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জলসম্পদ, বিদ্যুৎ ও কৃষি দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মহকুমায় কৃষির উন্নয়নে দফতরের পাশাপাশি সমস্ত স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিধিদেরও সক্রিয় উদ্যোগ নিতে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন৷
বিদ্যুৎ দফতরের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়, এই মহকুমায় ৩৬৫ টি জনবসতির মধ্যে ৩৩১টিতেই বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে৷ বাকি ৩৪টি বসতিতে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ হুক লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধে জনপ্রতিধিদের সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সব ধরণের নির্বাচিত সংস্থা র মাধ্যমে জনগণের কাছে এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে বলেছেন তিনি৷
পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহকুমায় ৩৬৪টি জনবসতির মধ্যে ১৭৮ টিতে পুরোপুরিভাবে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ বাকি ১৮৬টিতে আংশিক ব্যবস্থা রয়েছে৷ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মহকুমায় এমন কোনও বসতি নেই যেখানে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই৷ জলসেচ প্রকল্পগুলোতে সেচের অতিরিক্ত জল থাকলে সেই জল পানীয় জ লের উপযোগী করে তা সরবরাহের ব্যবস্থা করতে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন৷ এছাড়াও ২০১৭ সালের মে মাসের মধ্যে সমস্ত শৌচালয় নির্মাণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ এক্ষেত্রে রেগা ও স্বচ্ছ ভারত কোষ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করতেও বলেছেন তিনি৷
গৃহহীনদের জন্য বাসগৃহ নির্মাণ করার কর্মসূচী রূপায়ণ নিয়ে গোমতী জেলার জেলাশাসক জানান, ২০১৫-১৬ সালে আই এ ওয়াই -এ ৫৩৯টি ঘরের মধ্যে ৪০২ টি ঘর তৈরি করা হয়েছে৷ বাকি ১৩৭ টি ঘর তৈরির কাজ চলছে৷ এছাড়াও, রাজ্য সরকারের গৃহ নির্মাণ কর্মসূচীর মাধ্যমে ১৮১টি ঘরের মধ্যে ১৪৯টি তৈরি হয়েছে৷ বাকি ২৮টি ঘরের কাজ চলছে৷ ২০১৬ -১৭ সালে নতুন চালু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় এই মহকুমায় ৮১৩২ টি বাসগৃহ তৈরি করার লক্ষমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহকুমায় কোথাও জ্বরাক্রান্ত রোগী থাকলে সঙ্গে সঙ্গেই তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করতে হবে৷ এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতেও বলেন তিনি৷ তীর্থমুখের গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনে প্রসব করানোর জন্য ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট থেকে একটা নৌকার ব্যবস্থা করতে জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ছাড়াও তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী রতন ভৌমিক, বিধায়ক ড্যানিয়েল জমাতিয়া ও পরিমল দেবনাথ, স্বাশাসিত জেলা পরিষদের কার্যনিবাহী সদস্য শান্তনু জমাতিয়া, প্রধান সচিব ড জি এস জি আয়েঙ্গার ও ডা রাকেশ সারোয়াল, গোমতী জেলার জেলাশাসক র্যাভেল হেমেন্দ্র কুমার, অতিরিক্ত জেলাশাসক, অমরপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রাজীব দাস, অমরপুর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন তরুণ চক্রবর্তী, অমরপুর বি এ সি-র চেয়ারম্যান সর্বকিশোর জমাতিয়া, মহকুমা শাসক, বিডিওগণ এবং বিভিন্ন দফতরের পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেনগ্গ এদিকে আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার উদয়পুরে প্রস্তাবিত সাধারণ ডিগ্রী কলেজ করার জন্য দুটি পরিদর্শন করেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *