কংগ্রেসের ডাকে মোদির বিরুদ্ধে এক মঞ্চে বাম তৃণমূল সহ সাত দল

narendra-modiবিশেষ প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ১৪ নভেম্বর৷৷ বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ডাকে এক মঞ্চে তৃণমূল ও সিপিএম৷ রয়েছে আরজেডি, জেডিইউ, জেএমএম এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস৷ মুখ ফেরায়নি সিপিআইও৷ মূলত, বাতিল নোট ইস্যুতে গোটা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে চাপ ক্রমশ বাড়ছে৷ এই পরিস্থিতিতে সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনের আগেই কংগ্রেস বিজেপি বিরোধী মঞ্চ শক্তিশালী করতে উঠে পড়ে লেগেছে৷
সোমবার সংসদে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদের কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মিলিত হন তৃণমূল, সিপিএম সহ সাতটি দল৷ বুধবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদীয় অধিবেশনে নোট বদল নিয়ে মোদি সরকারকে এক যোগে কোণঠাসা কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে ঐ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ এদিন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা৷ কংগ্রেস সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং এনসিপিও যোগদান করার কথা ছিল৷ কিন্তু বিরোধী দলগুলির নেতারা দিল্লিতে না থাকার কারণে তাঁরা বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি বলে সূত্রের দাবি৷ তবে, সংসদে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধভাবেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হবে৷
নোট বাতিলের জের সারা দেশেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে৷ আর এই ইস্যুকেই পঁুজি করতে চাইছে বিরোধীরা৷ বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএম এই ইস্যুটিকে নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে চাপ আরো বাড়াতে চাইছে৷ ফলে, সংসদে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনকেই বিরোধীরা মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে বেছে নিয়েছে৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, সারা দেশে দুর্বল হয়ে পড়া জাতীয় কংগ্রেস অবিজেপি দলগুলিকে এই ইস্যুতে একছাদের তলায় নিয়ে আসা আপ্রাণ চেষ্টাকরবে৷ সামনেই দেশের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ কংগ্রেসের লক্ষ্য, রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনে দলের সাফল্যের থেকেও বিজেপির ভরাডুবি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়৷
অবশ্য, বিজেপিও কোন মতেই হাল ছাড়বে না৷ একদিকে যখন গুলাম নবীর কক্ষে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ বৈঠকে বসেছে, অন্যদিকে বৈঠক শুরু করে বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা সংসদীয় বোর্ড৷ সূত্রের দাবি, নোট বাতিল ইস্যুকে নিয়ে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হলেও পাল্টা আক্রমণাত্মক ভূমিকাই বহাল রাখবে বিজেপিও৷ সূত্র অনুসারে জানা গেছে, এদিন, বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাফ বলেছেন, গোটা দেশ সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে৷ ফলে, বিরোধীদের ভয় পেলে চলবে না৷ জানা গেছে, এই ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা সংসদে আলোচনা চাইলে সরকার পক্ষ তাতে রাজি৷
সবমিলিয়ে আসন্ন শীতকালীন অধিবেশন হৈহট্টগোলে ভরা থাকবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে৷ বিজেপিকে রুখতে বিরোধীরা সংসদে ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ বাড়াবে৷ তবে, কংগ্রেসের এই কৌশল কতটা কাজে আসবে তা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷ সূত্রের বক্তব্য, আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টি মুখে বিজেপি বিরোধী মঞ্চে সামিল হবে বলে জানালেও তাদের ঐক্যবদ্ধ করা কতটা সম্ভব হবে সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে৷ আবার ডিএমকে এবং এনসিপি’র অবস্থানও কংগ্রেসকে ভাবাচ্ছে৷ কংগ্রেস সূত্রের মতে, এদিনের বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন না তাদেরকে নিয়েই চিন্তা কংগ্রেসের৷ তবে, কংগ্রেস মনে করছে এই ইস্যুতে বিভিন্ন বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে তারা সফল হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *