গুপ্তধনের সন্ধান

indianrupeeগোপন, অতি গোপন অভিযান কিভাবে করিতে হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে বুঝাইয়া দিয়াছেন৷ তিনি ইহাও বুঝাইতে সক্ষম হইতেছেন যে, দেশের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপেও তিনি পিছু পা হইবেন না৷ দেশবাসী আপাত দৃষ্টিতে ‘মোদিকে’ নানা বর্ণেই অভিহিত করিতে চাহিবেন৷ কারণ, তাহার বর্ণময়তা ক্রমশ প্রকাশ হইতেছে৷ কালোধন দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে বিরাট জটিলতা সৃষ্টি করিয়াছে৷ এই সত্যি কেউ অস্বীকার করিতে পারিবেন না৷ কিছু দিন আগে কালো টাকার হদিশ পাইতে সরকার ঘোষণার একটি সুযোগ দিয়াছিল৷ কিন্তু কাঙ্খিত সাফল্য পাওয়া গিয়াছে বলিয়া মনে হয় না৷ অনেকেই ঘরে হিসাব বহির্ভূত টাকা মজুত রাখিয়াছে৷ এইবার সেই গুপ্তধনের সন্ধানে কঠোর পথেই আগাইয়াছে মোদি সরকার৷ ইহাতে কি রাঘব বোয়ালরা বাঁচিয়া যাইবেন? চুনোপুটিদেরই বিড়ম্বনা বাড়িবে? এই প্রশ্ণ উঠিয়াছে৷ যদি সরকার কঠিন পথ হইতে সরিয়া না আসেন তাহা হইলে রাঘববোয়ালরা বাঁচিবে কিভাবে? এই আশংকার মেঘ সহজেই কাটিবে বলিয়া মনে হয় না৷ কালো টাকার মালিকরা তো আসলে গুরুতর অপরাধি৷ সরকারী কর ফাঁকি দিয়া, দুই নম্বরী পথে অর্থ উপার্জনের কোটি কোটি টাকা কিভাবে বাঁচাইবে তাহা তো এখন বড় কথা৷ চাপে পড়িয়া সরকার যদি এক্ষেত্রে কোনও ছাড় দিতে চায় তাহা হইবে আত্মঘাতি৷ দেশের চরম সর্বনাশ৷
ইতিমধ্যে, কালো টাকার মালিকরা নানা উপায়ে বাঁচিবার চেষ্টা চালাইবেই৷ তাঁহাদের শক্তি, কৌশলকে তো খাটো করিয়া দেখিবার সুযোগ নাই৷ একথা কি অস্বীকার করা যাইবে যে, বড় বড় রাজনীতির নেতাদের কালো টাকা নাই? স্বাধীন ভারতে রাজনীতিতে এই কালো টাকার প্রভাবই তো প্রবল ভাবে বিদ্যমান৷ নির্বাচনের সময় যে, কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালা হয় তাহার উৎস কি, সেই কালো টাকার ভান্ডার নহে? কালোবাজারী তো এখন সর্বব্যাপী৷ এখন তা সর্বগ্রাসী হইয়া উঠিয়াছে৷ কালো ধন বা গুপ্তধনের সন্ধানে আজ যেভাবে সাড়াঁশী অভিযান চলিতেছে, তাহার যৎকিঞ্চিৎও যদি আগে ব্যবস্থা নেওয়া যাইত তাহা হইলে এমন বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছাইত না৷ আর সবচাইতে বেশী বিপজ্জনক হইয়া উঠিয়াছে জাল নোট৷ অভিযোগ যে পাকিস্তান হইতে কোটি কোটি টাকার জাল নোট গোটা দেশেই ছাইয়া গিয়াছে৷ কথায় আছে, ‘সর্বাঙ্গে ক্ষত মলম লাগাইব কত’৷ কালো টাকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য কতখানি আসিবে তাহা এখনই বলা মুশকিল৷ তবে, নোট বাতিলের ঘটনা যেভাবে গোপন রাখা সম্ভব হইয়াছে, কাকপক্ষীও টের পায় নাই, তাহা প্রশাসনিক বুদ্ধিমত্তারই পরিচায়ক৷ কালো টাকার বিরুদ্ধে নোট বাতিলের এই অভিযানকে স্বাগত জানাইয়াছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার৷ যাহারা বিরোধীতা করিয়াছেন তাহারা কালো টাকার বিরুদ্ধে কিভাবে ব্যবস্থা নিতে চাহেন সেই প্রস্তাব তো রাখিতে পারেন৷ একথা কি অস্বীকার করার সুযোগ আছে যে, দেশের একাংশ রাজনৈতিক দলই হইতেছে কালো টাকার সুতিকাগার৷ ইহা আমাদের চরম দুর্ভাগ্য৷ কালো টাকার বিরুদ্ধে নোট বাতিলই শেষ কথা নহে৷ তাহাকে প্রাথমিক পদক্ষেপই বলিতে হইবে৷ ইহাতে সব চাইতে বেশী দুর্ভোগ পোহাইতেছেন সাধারণ গরীব অংশের মানুষ৷ তাহার চাহিতেছেন এই কালো টাকার আগ্রাসন হইতে দেশ মুক্ত হউক৷
রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশের স্বার্থের চাইতে দলের স্বার্থকেই বড় করিয়া দেখিয়া থাকেন৷ প্রধানমন্ত্রী মোদির সিদ্ধান্ত তখনই তুঘলকি কান্ড হিসাবে অভিহিত করা যাইতে পারে যদি মানুষের বিড়ম্বনার বিনিময়ে কোনও সাফল্য না আসে৷ নোট বাতিলের এই পদক্ষেপে গোটা দেশেই কার্য্যত নাড়া পড়িয়াছে৷ সৎ সজ্জনরা সাময়িক অসুবিধাকে মানিয়া নিতেছেন৷ কিন্তু, যাহারা কালো টাকা লুকাইয়া রাখিযাছেন তাহারাই তো চিৎকার ও গলাবাজী চালাইবেন৷ আজ যে বিরাট আর্থিক সংস্কারে হাত পড়িয়াছে, সেখানে সকল সৎ নাগরিকরা পাশে থাকিবেন, সমর্থন যুগাইবেন সন্দেহ নাই৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *