সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়া ইন্দিরা গান্ধী জনপ্রিয়তার দৌড়ে অনেক বেশী আগাইয়া গিয়াছিলেন৷ অনেক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়াইয়া তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়া জনমোহিনী রূপে আম জনতার সামনে আভির্ভূত হইয়াছিলেন৷ মূল কংগ্রেস হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হইয়াছিলেন৷ জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ছিল জোড়া বলদ৷ জনপ্রিয়তার দৌঁড়ে ইন্দিরা কংগ্রেস হাত চিহ্ণ নিয়া ভারত জয় করিয়াছিলেন৷ ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ ও রাজন্য ভাতা বিলোপ করিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় হইয়া গিয়াছিলেন ইন্দিরা৷ মূল কংগ্রেস দল মুছিয়া গিয়া ইন্দিরা কংগ্রেসই জাতীয় কংগ্রেসের মর্যাদায় ভূষিত হয়৷ ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ, রাজন্য ভাতা বিলোপ করিয়া আম জনতার যে সমর্থন ইন্দিরা কুড়াইয়াছিলেন সেখানে পাঁচশ ও হাজার টাকার নোট বাতিল করিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আম জনতার কাছে কতখানি জনপ্রিয়তা লাভ করিয়াছেন সেই প্রশ্ণ উঠিয়াছে৷ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইন্দিরা বেশ কয়েকটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়াছিলেন৷ কিন্তু, নরেন্দ্র মোদির সাহসী পদক্ষেপ কঠোর সমালোচনার মুখেও পড়িয়াছে৷
মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতেই প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়া কেন পাঁচশ ও হাজার টাকা নোট বাতিল করা হইয়াছে তাহার ব্যাখ্যা দিয়াছেন৷ কালো টাকা উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপকে নিঃসন্দেহে স্বাগত৷ আম জনতা চায় কালো টাকার ফাঁস হইতে দেশ মুক্ত হউক৷ কালো টাকা জমা দিবার সময় সীমা অতিবাহিত হইবার পরই কেন্দ্রীয় সরকারকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হইয়াছে৷ পাঁচশ ও হাজার টাকার নোট বাতিল ঘোষণায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়াছে৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো মোদির ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মুখর হইয়াছেন৷ তাঁহার মতে আর্থিক জরুরী অবস্থা জারী করা হইয়াছে৷ মঙ্গলবার মধ্যরাত হইতে পাঁচশ ও হাজার টাকার নোট বাতিল করিয়া দেওয়ায় লেনদেনের যে কঠিন সমস্যা দেখা দিবে তাঁহাকে সামাল দেওয়া হইবে কিভাবে? পাঁচশ ও হাজার টাকার নোট বাতিল করা ও নতুন পাঁচশ ও দুই হাজার টাকার নতুন নোট ছাড়ার প্রক্রিয়া চলিতেছে৷ এই পরিস্থিতিতে দেশ জুড়িয়া আর্থিক জরুরী অবস্থা জারী করা হইয়াছে বলিয়া মন্তব্য করিয়াছেন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা৷ প্রশ্ণ উঠিয়াছে, কালো টাকার আগ্রাসনে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থাই বেহাল হইয়া পড়িয়াছে৷ পাকিস্তান বিস্তর জাল নোট ভারতে ছাড়িয়াছে বলিয়া সরকারী সুত্রেই অভিযোগ করা হইয়াছে৷ এই ভয়াল অবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারিলে পরিস্থিতি তো বিপজ্জনক হইয়া পড়িবে৷ কালো টাকার বিরুদ্ধে কিছু একটা করিতেই হইবে৷ হাত পা গুটাইয়া তো বসিয়া থাকা যায় না৷ যাহারা কালো টাকার মালিক তাহারা তো ক্ষীপ্ত হইবেই৷ এই কালো টাকার মালিকের মধ্যে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অন্যান্য পেশার মানুষ যাহারা আছেন তাহাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাইবে কিনা প্রশ্ণ উঠিয়াছে৷ গৃহীত পদক্ষেপ কালো টাকা উদ্ধারে সাফল্য কতখানি পাইবে? এই প্রশ্ণগুলিই এখন মুখ্য৷ দেশে কালো টাকার পাহাড় ভাঙ্গিবার চেষ্টায় দেশবাসীকে কিছু কষ্ট, ত্যাগ স্বীকার তো করিতেই হইবে৷ যদি নোট বাতিলের পিছনে অন্য কোনও মতলব কাজ না করে তাহা হইলে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাইতেই হয়৷
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোর প্রতিক্রিয়া আছড়াইয়া পড়িয়াছে৷ দেশ জুড়িয়া অসন্তোষ দেখা দিয়াছে৷ কারণ হঠাৎ ঘোষণায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার হাট করাই আটকাইয়া গিয়াছে৷ লেনদেন বন্ধ হইবার উপক্রম৷ যেন এক অর্থনৈতিক অবরোধ৷ এই অবস্থায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ অসন্তোষ দেখা দিবেই৷ আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়া ইন্দিরা গান্ধী জনসমর্থন কুড়াইয়াছিলেন৷ কিন্তু, মোদির পক্ষে মানুষের উজার করা সমর্থন নাই৷ আর্থিক সমৃদ্ধির প্রশ্ণে আজকের পদক্ষেপ হয়তো ভবিষ্যতে মোদিকে মানুষ স্বাগত জানাইবে৷ হয়ত এজন্য সময়ের অপেক্ষা করিতেই হইবে৷
2016-11-10