নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ নভেম্বর৷৷ ৫০০ ও ১০০০ টাকার চলতি নোট বাতিল হতেই খুচরো টাকার গ্যারাকলে

নাভিশ্বাস উঠেছে গোটা রাজ্যবাসীর৷ একই হাল গোটা দেশেরও৷ বুধবার দিনভর সারা রাজ্যে ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার নোটের লেনদেনে খুচরোর জন্য ভোগান্তির মুখে পড়েছেন রাজ্যবাসী৷ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প, ওষুধের দোকান ইত্যাদিতে চলতি ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়নি ঠিকই, কিন্তু মানুষ জিনিস ক্রয় করতে কিংবা ওষুধ নিতে গিয়ে বা পেট্রোলের জন্য হয়রানির মুখে পড়েছেন৷ রাজধানী আগরতলা সহ গোটা রাজ্যে যে কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছিল সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার বদলে পেট্রোল নিতে গেলে খুচরো দেওয়া সম্ভব নয়৷ পেট্রোল পাম্প মালিকদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত ১০০ টাকার নোটের অভাব রয়েছে৷ ফলে, কেউ ৫০০ টাকা দিয়ে ৩০০ টাকার পেট্রোল নিতে চাইলে অবশিষ্ট ২০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়৷ ফলে, বাধ্য হয়ে যারা খুচরো টাকা দিতে পারছেন না তারা ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার পেট্রোল নিচ্ছেন৷ রাজধানী আগরতলার কয়েকটি বিপণি বিতানেও নোটিশ লাগিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় জিনিস ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার বদলে খুচরো দেওয়া সম্ভব নয়৷ ফলে, এদিন বিপণি বিতানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় অনেকটাই কম ছিল৷
এসবিআই আগরতলা শাখার জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন, গ্রাহকদের যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ তবে, ১০০ টাকার নোটের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে তা স্বীকার করেছেন তিনি৷ আরবিআই’র দাবি, সারা দেশের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে ১০০ টাকার নোট রয়েছে৷ কিন্তু একথা সম্পূর্ণ মানতে রাজি নন রাজ্যের একাধিক ব্যাঙ্কের পদাধিকারীরা৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের শাখা নিবন্ধক জানিয়েছেন, আগরতলায় তাদের শাখায় যে সমস্ত নোট রয়েছে তার অধিকাংশই ৫০০ এবং ১০০০ টাকা৷ ফলে, শুক্রবার থেকে যখন এটিএম গুলি চালু হয়ে যাবে তখন সেখান থেকেও ১০০ টাকার নোট মিলবে কিনা সেই শঙ্কাও দেখা দিয়েছে৷ জানা গেছে, শুক্রবারই ৫০০ টাকার নতুন নোট বাজারে এসে যাবে৷ ২০০০ টাকার নতুন নোট আগামী সোম কিংবা মঙ্গলবারের মধ্যে বাজারে চলে আসবে৷ সূত্র অনুসারে জানা গেছে, আকাশপথে ৫০০ এবং ২০০০ টাকার নতুন নোট রাজ্যে পাঠানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে আরবিআই৷ কেন্দ্রীয় অর্থসচিব অশোক লাভাসার অবশ্য দাবি, শুক্রবার থেকেই এটিএমগুলিতে নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোট পাওয়া যাবে৷ এদিকে, ব্যাঙ্কগুলিতে ইতিমধ্যেই চলতি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বদলানোর জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম তৈরি করা হয়েছে৷ তাতে জমাকর্তা তার পরিচয়পত্র হিসেবে আসল আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার আইডিকার্ড, পাসপোর্ট, রেগার কার্ড, প্যান কার্ড অথবা সরকারি আইডি কার্ড এগুলির মধ্যে যে কোন একটি সাথে নিয়ে আসতে হবে এবং কাউন্টারে দেখাতে হবে৷ কার্ডনম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে এবং ঐ ফর্মেই কত সংখ্যক চলতি ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার নোট জমা দেওয়া হবে এবং তার মূল্য কত তা উল্লেখ থাকতে হবে৷ বৃহস্পতিবার থেকে এই পদ্ধতি চালু করার নির্দেশ দিয়েছে আরবিআই৷
এদিন, রাজ্যের পাশাপাশি সারা দেশেই খুচরো সমস্যা মারাত্মকভাবে ভুগিয়েছে জনগণকে৷ রেলওয়ে টিকিট কাউন্টারেও খুচরো দেওয়া নিয়ে সমস্যা হয়েছে৷ অভিযোগ, টিকিট ক্রয় করতে গেলে ৫০০ টাকা দিলে তা নেওয়া হচ্ছে না৷ কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ৫০০ টাকার কম ভাড়ার কোন টিকিটে যে টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে তা নেই তাদের কাছে৷ পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, টিকিট বাতিল করা হলে ফেরত অর্থ কাউন্টার থেকে দেওয়া সম্ভব নয়৷ সে পরিমাণ অর্থ রেলওয়ের কাছে মজুত নেই৷ কারণ, মঙ্গলবার মধ্যরাত্রি থেকে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার চলতি নোট বাতিল করা হয়েছে৷ ফলে, টিকিট বাতিল করা হলে সেই অর্থ সরাসরি যাত্রীদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে পাঠানো হবে বলে পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ সেই মোতাবেক টিকিট বাতিল করার সময় ফর্মে ব্যাঙ্ক একাউন্ট নম্বরের সাথে আইএফএসসি কোড উল্লেখ করতে হবে৷
ইতিমধ্যে, বিভিন্ন বেসরকারি বিমানসংস্থাগুলিও বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, বিমানের টিকিট বাতিল করা হলে নগদে অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়৷ বিমান টিকিটের সেই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক একাউন্টে পাঠানো হবে৷ পাশাপাশি টিকিট ক্রয় করার ক্ষেত্রে চলতি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট গ্রহণ করা হলেও খুচরো টাকা যাত্রীকেই সাথে করে নিয়ে আসতে হবে৷ স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ণ উঠেছে, আরবিআই খুচরো নিয়ে কোন সমস্যা নেই দাবি করলেও পরিবহন ক্ষেত্রে রেল এবং বিমান সংস্থাগুলি বিজ্ঞপ্তি জারিকরে তাদের অসহায়ত্ব যাত্রীদেরকে ভাগ করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে৷
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে চলতি ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়ে যাওয়ায় বুধবার দিনভর যে হয়রানি পোহাতে হয়েছে রাজ্যবাসী সহ গোটা দেশবাসীকে তা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমেই বেড়ে চলেছে৷