নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/ চড়িলাম, ৬ নভেম্বর৷৷ টানা দুদিনের বৃষ্টিতে নাজেহাল রাজধানী৷ জনজীবন বিপর্যস্থ৷ নদীগুলিতে জল স্ফীতি দেখা দিয়েছে৷ জলের নিচে ডুবে গেছে ফসল৷ ধান, সবজি সহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ অকাল বর্ষণে কৃষকদের মাথায় বাজ পড়ার উপক্রম হয়েছে৷
খয়েরপুরের ত্রিনাথ এলাকা অকাল বর্ষণে প্লাবিত৷ হাওড়া নদীর জলে ভেসে এলাকার ৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি অধিক বিনষ্ট৷ প্রশাসনিক কর্তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এলেন৷ এলাকার জনজীবন ব্যাহত৷
গত ২-৩ দিনের বর্ষায় আজ সদর মহকুমার চাঁদপুর অক্ষয় কুমার স্মৃতি নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ে এবং প্রতাপগড় ঋষিকলোনী উচ্চবিদ্যালয়ে বন্যা দুর্গতদের জন্য দুটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়ছে৷ চাঁদপুর অক্ষয় কুমার স্মৃতি নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের শিবিরে ১৩ টি পরিবারের ৫০ জন এবং প্রতাপগড় ঋষিকলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিবিরে ৬টি পরিবারের ৩৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন৷ আজ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ শিশুদের জন্য দুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ পশ্চিম জেলার জেলা শাসক ডাঃ মিলিন্দ রামটেকে, অতিরিক্ত জেলা শাসক কুন্তল দাস এবং সদর মহকুমা শাসক সমিত রায় চৌধুরী আজ ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেন৷ সদর মহকুমা শাসক শ্রী চৌধুরী জানান, বন্যার ফলে চাঁদপুর এলাকায় ৫টি বসতঘর হাওড়া নদীর জলে ভেসে গেছে৷ ক্ষতিগ্রস্থ ৫টি পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেবার জন্য প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে৷ বন্যার্তদের সাহায্যর্থে ২টি নৌকা নামানো হয়েছে৷ উপসমাহর্তা সহ অসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মী ও স্বেচ্ছা সেবকরা সতর্ক রয়েছেন৷
শনিবার থেকে টানা বর্ষণে জলমগ্ণ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা৷ নিম্নচাপ বাংলাদেশে সবতেই শনিবার ও রাজ্যে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে৷ সকাল থেকে মুষল ধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ণ হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা৷ দুর্ভোগ চরমে৷ আবহাওয়ার পূর্বভাষে বলা হয়েছে আগামী ২৪ ঘন্টায়ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে৷
নিম্নচাপের জেরে রবিবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে রাজ্যে৷ ভারি বর্ষনে জলমগ্ণ হয়ে পড়েছে বহু এলাকা৷ টানা বৃষ্টিতে আগরতলা শহরে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে৷ বহু জায়গায় জলজমে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ায় জন দুর্ভোগ চরমে গিয়ে উঠেছে৷ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফলসের৷ শনিবার রাত থেকে মুষল ধারে বৃষ্টি হওয়ায় জল বেড়েছে হাওড়া সহ একাধিক নদীতে৷ সকাল থেকে শহরের পথঘাট ছিল একেবারেই ফাঁকা৷ বিশেষ করে রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই ঘর থেকে বের হননি৷ বাজার হাটেও তেমন লোকসমাগম দেখা যায়নি৷ কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচল না করায় অসুবিধায় পড়তে হয়েছে যাত্রীদের৷ এদিকে নিধারিত সময়ের অনেক পর চলাচল করেছে রেল৷ আগরতলা- ধর্মনগর, ধর্মনগর-আগরতলা রেলও দেরিতে চলেছে৷
এদিকে আগরতলা বিমান বন্দরস্থিত আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আগামী ২৪ ঘন্টায় আকাশ সাধারণত যোগাচ্ছন্ন থাকবে৷ বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে৷ এই নিম্নচাপ কেটে গেলেই কমতে পারে তাপমাত্রা৷ বইবে শীতের আমেজ৷ জানা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম উপকূল পেরিয়ে শক্তি হারিয়ে ‘সুস্পষ্ট লঘুচাপ’ হিসেবে অবস্থান করছে সীতাকুন্ডু এলাকায়৷ এর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে৷ সোমবার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন৷
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে গোটা দেশেই বর্তমানে অকালবর্ষণ চলছে৷ রাজ্যেও একই হাল৷ রাজ্যে গত তিনদিন যাবত এই অবিরাম বৃষ্টি চলছে৷ এর মধ্যে পাহাড় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বেশি থাকায় হাওড়া নদীর জল বাড়ন্ত৷ সে বাড়ন্ত জলে খয়েরপুরের ত্রিনাথ এলাকা প্লাবিত হয়েছে৷ এর মধ্যেই হাওড়া নদীর জলের তোড়ে ত্রিনাথ এলাকার ৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি অধিক ক্ষতির সম্মুখীন৷ যারা অধিক ক্ষতির সম্মুখীন তাদের একজনের নাম না জানা গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত বাকিরা হলেন দিলীপ পাল, সোমা দাস ও অর্জুন পাল৷ খবর পেয়ে এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর ত্রিনাথ এলাকা সফরে যান৷ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর৷
এদিন এলাকার কাউন্সিলার, সদর মহকুমা শাসক সমিত রায় চৌধুরী সহ প্রশাসনিক অন্যান্য কর্তারাও ত্রিনাথ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আসেন৷ এরপরও হাওড়া নদীর বাড়ন্ত জলের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর মধ্যে একটা চাঞ্চল্যভাব বিরাজমান৷ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন৷
অকাল বর্ষণে বিপর্যস্থ জনজীবন৷ রবিবার ছুটির দিনে ঘরবন্দী মানুষজন৷ খানিকটা শীতের আমেজও উপভোগ করার সুযোগও মিলেছে৷ তবে, দুদিনের অকাল বর্ষণে নদীগুলিতে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে৷ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে৷ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবরও মিলেছে৷ রবিবার দিনভর বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে৷ খোয়াই নদীর জলস্ফীতি বিপদ সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে৷ কল্যাণপুরের সর্বত্র নিম্নাঞ্চল জলপ্লাবিত হয়েছে৷ বহু মানুষ বাস্তচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা৷ যানবাহন চলাচল খুবই কম৷ রবিবার ছিল কল্যাণপুরেরর সাপ্তাহিক হাট৷ কল্যাণপুর সাপ্তাহিক হাটে সবজি বাজার বেশ জমজমাট হয়৷ কৃষিপ্রধান ওই এলাকায় প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়৷ কল্যাণপুর বাজারে সবজি বাজারজাত করেন কৃষকরা৷ রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্য ও বহিরাজ্যের ব্যবসায়ীরা কল্যাণপুর থেকে সবজি ক্রয় করতে আসেন৷ গাড়ি গাড়ি সবজি বহিরাজ্যেও পাঠানো হয়৷ কিন্তু টানা বর্ষণের পলে কল্যাণপুরে সবজির হাট জমেনি৷ কারণ কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল তুলতে পারেনি৷ ফসলহানির ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ ফসল জলের নিচে ডুবে গেছে৷ পাকা ধানও জলের নিচে ডুবে রয়েছে৷ ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে৷ কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন৷ আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ ঘন্টাতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে৷ তাতে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে৷
টানা বৃষ্টিতে চড়িলামে কৃষকদের প্রচুর পরিমানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ প্লাবিলত হয়েছে সিপাহীজলা জেলায় বিভিন্ন এলাকা৷ অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা জলে প্লাবিত হয়েছে৷ ক্ষতিগ্রস্থ হয় ঘরবাড়ি৷ শাক সব্জি, ধানের ফসল ও জাতীয় সড়ক পর্যন্ত জলমগন হয়ে গিয়েছে৷ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধানের ফসল, সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ ওদিকে রাঙ্গাপানী নদীর জল উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ রাঙ্গাপানী নদীতে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে৷ দীর্ঘ ১৬ বছর পর বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে আগরতলা সাব্রুম জাতীয় সড়ক৷ রবিবারের বৃষ্টিপাতের ফলে কোন কোন স্থানে জাতীয় সড়কের উপর জল জমে গিয়েছিল৷ চড়িলাম পঞ্চায়েতের কাছে কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর জলে তলিয়ে গেছে৷ সিপাহীজলা জেলায় ২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হ য়েছে বলে জানায় বিডিও শান্তনু বিকাশ দাস৷ ক্ষতিগ্রস্থ হয় উত্তর চড়িলাম পঞ্চায়েতের মানুষ৷ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলি হ ল চড়িলাম, ছেচরীমাই, পুরানবাড়ী, লালসিংমুড়া, রামছড়া, শিকোরিয়া এলাকার বহু মূল্যবান সম্পদ জলে ভালমান৷ এছাড়া পোনিসাগর, বাতিলায়মা, কসবা, কেকেনগর চন্দ্রনগর, বাইখ্যাদিগি প্রভৃতি৷
2016-11-07