নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ নভেম্বর৷৷ পাশ-ফেল প্রথা পুনরায় চালু নিয়ে আপত্তি না থাকলেও ভারতের মত দেশে যেখানে পরিকাঠামোগত এবং আর্থিক অবস্থার দিক দিয়ে দৈন্যতা রয়েছে সেখানে এই প্রক্রিয়ায় জটিলতা অনেক বলে মন্তব্য করেন ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা৷ তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়াটি খুবই সুন্দর৷ নিঃসন্দেহে শিক্ষার মান উন্নয়নে সীমারেখা থাকা দরকার৷ কোনভাবেই খোলা ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না৷ কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষার যে পরিকাঠামো রয়েছে এবং করুণ আর্থিক অবস্থা তার মধ্যে থেকে এই প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার ফলে অনেক জটিলতাও আসতে পারে৷ কিন্তু নীতিগতভাবে পাশ-ফেল প্রথা পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে কোন আপত্তি নেই বলে তিনি জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারগুলিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে৷ রাজ্য সরকারও এই প্রথা পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে অবস্থান নিয়েছে৷ বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে এবিষয়ে মতামতও সংগ্রহ করা হবে৷ ফলে, এডিসিও এই প্রথা পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে অবস্থান নিয়েছে৷
এদিকে, বৃহস্পতিবার আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে উপজাতি ছাত্র ইউনিয়নের তরফে নতুন ও পুরাতন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরস্পর পরিচিতি এবং নতুন ছাত্রছাত্রীদের স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়৷ এই অনুষ্ঠান মূলত, নতুন ও পুরাতন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময়ের জন্যও৷ একথা জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা৷ তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির নিরিখে শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীকরণ, সাম্প্রদায়িকতা এবং বাণিজ্যিকীকরণের যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে সে বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের করণীয় বিষয় নিয়ে এই অনুষ্ঠানে আলোচনা হবে৷ শিক্ষা ব্যবস্থা ঐ তিনটি কারণে গোটা দেশে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত৷ তার থেকে মুক্তি পেতে এবং কিভাবে এই জটিল অবস্থাকে আটকানো যাবে তা নিয়েই এই অনুষ্ঠানে চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে৷
রাধাচরণবাবু এদিন বলেন, দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে আক্রমণ শুরু হয়েছে৷ শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িক করে তোলার চেষ্টা চলছে৷ বেসরকারিকরণেরও প্রয়াস নেওয়া হয়েছে৷ এই পরিস্থিতি দেশের যুবক যুবতীদের জন্য ভয়ংকর বলে তিনি মন্তব্য করেন৷ তাই এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে৷ দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও বিভেদকামী শক্তি শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে৷ শিক্ষার পরিবেশকে বিনষ্ট করার চেষ্টা চলছে৷ এসমস্ত বিষয় আজকের এই অনুষ্ঠানে আলোচনা হবে বলে রাধাচরণবাবু জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি রাজ্যে শিক্ষার পরিসর আরো বড় কিভাবে করা যায় সে বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন৷
2016-11-05