নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ নভেম্বর৷৷ জুট মিলের কর্মচারীদের বেতন ভাতা মিটিয়ে দেওয়া নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে অনেকটাই চাপে রয়েছে রাজ্য সরকার৷ আর এর ফায়দা তোলার কৌশল নিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এই দাবি করে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনকে সকলের কাছে গিয়ে তাদের বোঝানোর দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন সিট্যু নেতা তথা পরিবহণমন্ত্রী মানিক দে৷ বুধবার সিট্যুর প্রথম পশ্চিম জেলা সম্মেলনের মঞ্চ থেকে কর্মীদের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহণমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন কর্মচারী দরদ দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও অলাভজনক আধা সরকারি সংস্থাগুলির বোঝা বহন করছে রাজ্য সরকার৷ তাঁর দাবি, তেরটি পিএসইউ’র মধ্যে ৩/৪ টি ছাড়া কেউই নিজেদের আয় দিয়ে কর্মীদের বেতন ভাতা দিতে পারছেনা৷ রাজ্য সরকারের অর্থানুকূল্যেই ঐ পিএসইউগুলির কর্মচারীরা বেতন ভাতা ইত্যাদি পাচ্ছেন৷
এদিন, পরিবহণমন্ত্রী জোর গলায় দাবি করেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে৷ তিনি বলেন, একটা অংশ বোঝানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের উপর কোন নজরদারি নেই৷ সরকার তাদের বিষয়ে ভাবে না৷ এমনকি চিন্তাও করে না৷ তিনি দাবি করেন, যেভাবে বিষয়টিকে উপস্থাপিত করা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়৷ তাঁর যুক্তি, রাজ্যে ৩/৪ টি পিএসইউ বাদ দিলে বাকি পিএসইউগুলির বেতন ভাতা সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব রাজ্য সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে৷ এদিন তিনি বলেন, টিআইডিসি এবং টিএফডিসি যা আয় তাদের হচ্ছে তা দিয়েই তারা কর্মচারীদের বেতন ভাতা মিটিয়ে দিতে পারছে৷ টিআরপিসি’রও আয় তুলনামূলক হচ্ছে৷ কিন্তু ঘাটতিও থাকছে৷ বাকি সবকটি পিএসইউ’র রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় বেতন ভাতা মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে৷ তিনি স্বীকার করে বলেন, ঐ পিএসইউগুলির সমস্যা আছে ঠিকই, কিন্তু সরকার তাদের বিষয়ে উদাসীন এটা মনে করার কোন উপায় নেই৷
সরকারি উদাসীনতার প্রসঙ্গে পরিবহণমন্ত্রী এদিন জোট জমানার হাল তুলে ধরেন৷ তিনি জানান, জোট আমলে জুট মিলের বেতন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ কর্মচারীরা রাজভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেছিলেন৷ কখনো চার মাস পর একমাসের বেতন আবার কখনো তিনমাস পর ১৫ দিনের বেতন দেওয়া হত৷ তিনি দাবি করেন, সেই অভিজ্ঞতা আজকের দিনে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নেই৷ সরকারি কর্মচারীদের যখন ডিএ দেওয়া হয় তখন পিএসইউ’র কর্মচারীদেরও ডিএ মেটানো হয়৷ পিএসইউগুলির তহবিল ফাঁকা থাকলে রাজ্য সরকার আর্থিক সহায়তা দিয়ে কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া হয়৷
তাই এদিন তিনি জোর গলায় দাবি করে বলেন, বামফ্রন্ট না থাকলে ১৩টি পিএসইউতে যারা কাজ করছেন তাদের কাজ থাকত না৷ উদাহরণ হিসেবে তিনি আসামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন৷ তিনি জানান, আসামে অধিকাংশ পিএসইউগুলি বন্ধ হয়ে গেছে৷ কর্মচারীদের এককালীন কিছু টাকা দিয়ে স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ ফলে, যারা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য সিট্যুর কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন তিনি৷ শুধু তাই নয়, যারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন তাদের কাছে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য সিট্যুর কর্মীদের কাঁধে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী৷
2016-11-03