নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ১৯ জুলাই৷৷ দীর্ঘ ১৬ বছর পর বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে আগরতলা-সাব্রুম সড়ক৷ জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে৷ মঙ্গলবার যদিও হাল্কা বৃষ্টিপাতে ফলে কোন কোন স্থানে জাতীয় সড়কের উপর জল জমে গিয়েছিল৷ চড়িলাম পঞ্চায়েতের কাছে চারটি পরিবারের বারোজন সদস্য এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শিবিরে আশ্রিত৷ তাদের বাড়ি ঘর ভেঙ্গে জলে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে৷ গরু, ছাগল ও অন্যান্য গৃহপালীত পশুর খাবার নেই৷ সোমবার চড়িলামের চার পরিবারের ১২ জন সদস্য চিড়াগুড় খেয়ে রাত্রি যাপন করলেও খবর লেখা পর্যন্ত তাদের পেটে ভাত জুটেনি৷
সিপাহীজলা জেলার মোট তিন হাজার পচাত্তর জন সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিডিও শান্তনু বিকাশ দাস জানিয়েছেন৷ সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর চড়িলাম পঞ্চায়েতের সাধারণ মানুষ৷ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি হল চড়িলাম, ছেচড়ীমাইল, পুড়ানবাড়ী, লালসিংমুড়া, রামছড়া, শিকোরিয়া৷ ঐসব এলাকার দই হাজার পঁচাত্তর জনের বাড়িঘর মূল্যবান সম্পদ জলে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে৷
এছাড়া বিশালগড়ের গোপিনগর, বাতিলারমা, কসবা, কে কে নগর, চন্দ্রনগর, বাইদ্যাদিঘি, রাউৎমলা, লক্ষ্মীবিল প্রভৃতি স্থানে বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এলাকাবাসীর অভিযোগ জলমগ্ণ অবস্থায় থাকা সত্বেও প্রশাসনিক স্তরে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না৷ বিশালগড় ও চড়িলামে ত্রাণ শিবির খোলা হলেও শিবিরে আশ্রিত মানুষের মধ্যে চিড়া গুড় ছাড়া আর অন্য কোন খাবার জুটেনি৷ একে গৃহহীন অন্যদিকে পেটে খাবার নেই৷ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চড়িলাম এলাকার সুভাষ দাস নামে এক ব্যক্তি৷ পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় এলাকায় বন্যা কবলিত স্থানের জনগণকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হলেও হতদরীদ্র মেহনতী সাধারণ মানুষ তীব্র খাদ্যাভাবে ভুগছেন৷ তাছাড়া বিনাচিকিৎসায় ভুগছেন সুভাব দাস৷ শিবিরে আশ্রীত পরিবারগুলির অভিযোগ তাদের মধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে সঠিকভাবে ত্রাণ সামগ্রি বিলি করা হচ্ছে না৷
2016-07-20

