নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, খোয়াই, ১১ জুলাই৷৷ সিধাই থানা এলাকার সিধাই মোহনপুরের ঘোষপাড়ায় পথ দূর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছে দু’জন৷ আহতরা হল হারাধন বিশ্বাস ও রাহুল সুহেন৷ দুজনকেই প্রথমে মোহনপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখান থেকে তাদের জি বি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়৷ আহতদের মধ্যে রাহুলের অবস্থা খুবই সংকটজনক৷
সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাত নয়টা নাগাদ হারাধন বিশ্বাস বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে দ্রুত বেগে বের হয়৷ অপরদিকে প্রতিবেশী রাহুল সুহেন বাজার থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল৷ তখনই দ্রুতগামী বাইক বাইসাইকেলকে ধাক্কা দেয়৷ তাতে বাইসাইকেল আরোহী রাহুল ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়৷ বাইক চালকও বাইক নিয়ে ছিটকে পড়ে জখম হয়৷ স্থানীয় লোকজনরা দুজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ বাইক চালকের দ্রুতগামীতা ও অসাবধানতার কারণেই দূর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে৷ সিধাই থানার পুলিশ এই ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করেছে৷ পুলিশ দূর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷
এদিকে, খোয়াই জেলায় প্রতিদিন পথ দূর্ঘটনা লেগেই আছে৷ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সাথে পাল্পা দিয়ে খোয়াইতে মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ছে যান দূর্ঘটনা৷ সোমবারও খোয়াই থানাধীন সোনাতলা এলাকায় একটি বড় গাড়ীকে পাশ কাটতে গিয়ে ৮ জন যাত্রী নিয়ে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে টিআর০১-৩২৯০ নম্বরের অটো৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায় খোয়াই থানাধীন সোনাতলা গ্রামের মহাবীর চৌমূহনী এলাকায় একটি বড় গাড়ীকে পাশ কাটতে গিয়ে যাত্রীবাহী অটোটি ধাক্কা খায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ৮ জন যাত্রী নিয়ে অটোটি উল্টে যায়৷ অটো থেকে ছিটকে পড়েন সমস্ত যাত্রীরা৷ গুরুতর জখম হন অটোর চালক চন্দন দাস৷ পাশাপাশি অটোর ৮ জন যাত্রীই জখম হন৷ আহত যাত্রীরা হলেন বুলু রানী দেবনাথ, ছবি রাণী দেববর্মা, লক্ষী বর্মা, রহিম বর্মা, কমলা বর্মা, প্রাণতোষ সোম ও বিমলা দেব৷ আহতদের তড়িঘরি নিয়ে আসা হয় খোয়াই জেলা হাসপাতালে৷ সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে৷ তবে অটো চালক চন্দন দাসের আঘাত গুরুতর হওয়ায় উনাকে জিবি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা৷ তবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া যান দুর্ঘটনার জন্য খোয়াইবাসী দায়ি করছেন সরু রাস্তা এবং রাস্তার মধ্যেকার ছোট-বড় গর্তকে৷ আর এবিষয়ে পূর্ত্ত দপ্তরের খামখেয়ালিপনাই চরম ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠছে৷ তবে খোয়াইতে জনগনের সুবিধার্থে ফুটপাত না থাকা একটা বিরাট কারণ৷ শহরের উপর ফুটপাত দোকানীদের দখলে থাকার ফলে এবং সেই সাথে মাত্রাতিরিক্ত হারে যানবাহন বৃদ্ধির ফলে পথচলতি মানুষকে সর্বদাই বিপাকে পড়তে হচ্ছে৷
তাছাড়া যানবাহন চালকদের অতি মাত্রায় অসচেতনতা, দ্রুত গতিতে যান চালানো এবং ট্রাফিক নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করার মতো প্রবণতা কেবলই বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই হেলমেট না পরে বাইক আরোহীরা নিত্যদিনই হিরোগিরি করতে ব্যস্ত থাকেন৷ এর মধ্যে যেমন রয়েছে বিত্তশালী পরিবারের লোক তেমনি রয়েছে প্রভাবশালী লোকও৷ আরক্ষা প্রশাসন কেবল মাত্র নির্দিষ্ট কিছুদিনেই বাইক আটক করার অভিযানে নামেন৷ মাসের অন্যান্য দিনগুলিতে ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই হেলমেট না পরে অধিক গতিতে একের পর এক বাইক চালাচল করলেও তারা তখন চোখে দেখেন না৷ এই কর্তব্যে গাফিলতির কারনে প্রাণসংশয় হয় আম জনতার৷ অথচ খোয়াইয়ের পুলিশ আধিকারিকরাই বিভিন্ন স্থানে জনগনকে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রয়াস করছেন৷ অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশ কর্তব্যে গাফিলতির চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে ব্যস্ত৷
2016-07-12

