কোর্টে বেকসুর খালাস জঙ্গী সংগঠন টাইগার ফোর্সের সুপ্রিমো রণজিৎ দেববর্মা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ মে৷৷ রাজ্যের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন এটিটিএফের প্রধান রণজিৎ দেববর্মাকে সদরের

রঞ্জিত দেববর্মা৷ ছবি নিজস্ব৷
রঞ্জিত দেববর্মা৷ ছবি নিজস্ব৷

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস বি দত্ত বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন৷ দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার আদালত মামলার রায়ে রণজিৎ দেববর্মাকে খালাস করে দিয়েছে৷ উল্লেখ্য, খুন, সন্ত্রাস, অপহরণ, অগ্ণিসংযোগ, গণ হত্যা সহ বেশ কয়েকটি ধারায় রণজিৎ দেববর্মার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল৷ কোন ক্ষেত্রেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেও প্রমাণিত হয়নি৷ আজ ফের প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস হয়ে গেলেন রণজিৎ দেববর্মা৷ উল্লেখ্য, ২০০১ সালে কান্ত কোবরায় মিটিং করতে গেলে পাহাড়ের উপর থেকে এটিটিএফের জঙ্গীর এডিসির বর্তমান মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা এবং বিধায়ক প্রণব দেববর্মাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়৷ ঐ ঘটনায় নয়জন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন৷ আহত হন আরও চার-পাঁচজন৷ তৎকালীন সময়ে জিরানীয়া থানায় একটি মামলা হয়৷ মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রণজিৎ দেববর্মার নাম উঠে আসে৷ কিন্তু, আজ এই মামলায় আদালতে ঐ ঘটনার সাথে যুক্ত থাকা নিয়ে রণজিৎ দেববর্মার বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ না থাকায় আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এটিটিএফের প্রধান রণজিৎ দেববর্মা দীর্ঘদিন বাংলাদেশে ছিলেন৷ বাংলাদেশ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল৷ পরবর্তী সময়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে ভারত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালত সোপর্দ করে৷ আদালত থেকে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছিল৷ সোমবার সদরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে বেকসুর খালাস করায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থাজ্ঞাপন করেছেন এটিটিএফের প্রধান রণজিৎ দেববর্মা৷ আদালত তার প্রতি ন্যায় বিচার করেছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷ আদালত তাকে খালাস করে দেওয়ায় রণজিৎ দেববর্মার পিতাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাবে৷ তাতে পরিবারের সবাই স্বভাবতই দারুণ খুশি৷
মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি এটিটিএফের প্রধান রণজিৎ দেববর্মা বলেন, আন্দোলন করে তিনি সফল হয়েছেন৷ যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন প্রত্যেককেই শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মমুখী হতে হবে৷ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান৷ শান্তি আলোচনাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ বলে তিনি নিজেও স্বীকার করেন৷ রাজ্যে বর্তমানে শান্তির পরিবেশ গড়ে ওঠার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উন্নয়নের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে৷ ত্রিপুরায় আর আগের মত পরিস্থিতি নেই৷ সর্বত্র উন্নয়ন হচ্ছে৷ উন্নয়নের ফলে উত্তরপূর্বাঞ্চলের সবকটি রাজ্যেই শান্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷