ইন্দো-বাংলা মৈত্রীবন্ধন আরও মজবুত করতে রাজ্যপালের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ মার্চ৷৷ শরীরের আঙ্গুল এবং নখের মধ্যে যে সম্পর্ক, ভারত ও বাংলাদেশ এই দুটো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পর্ক ঠিক তেমনি৷ এই দুই রাষ্ট্রের মৈত্রী সম্পর্ক যত না গুরুত্বপূর্ণ, ত্রিপুরার জন্য সেটা আরও এক হাজার গুণ বেশী গুরুত্বপূর্ণ৷ কেননা, ত্রিপুরার তিনদিকে বাংলাদেশ, আবার বাংলাদেশের তিনদিকে ভারতবর্ষ৷ পৃথিবীর tathagata royআর কোথাও এমন অবস্থানে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব আছে বলে আমার মনে হয় না৷ গতকাল সন্ধ্যায় রবীন্দ্র শতবাষিকী ভবনের ছোট প্রেক্ষাগৃহে আগরতলাস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন আয়োজিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ৪৫তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে একথাগুলি বলেন রাজ্যপাল তথাগত রায়৷ তিনি বলেন, পাশাপাশি অবস্থানের ফলে এই দুই রাষ্ট্রের স্বার্থও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত৷ সুতরাং এই দুটো দেশের সম্পকর্কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আরও বহু মাইলফলক অতিক্রম করতে হবে৷ আর এর মাধ্যমে দুই দেশেই উপকৃত হবে৷ তিনি আরও বলেন, গত দুদিন আগে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্পর্কের আরও একটি নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে৷ দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের দুই প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত চেষ্টায় ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ইন্টারনেট পরিষেবার আদান প্রদান শুরু হয়েছে৷ ত্রিপুরার জন্য ট্রানজিট ভিসা সরলীকরণের উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন৷ ইন্দো-বাংলা সাংসৃকতিক আদন প্রদানের বন্ধনকে আরও বেশী শক্তিশালী ও মজবুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রাজ্যপাল আহ্বান জানান৷ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি সূদূর স্পেন থেকে আসা প্রজন্ম একাত্তর, স্পেন শাখার আহ্বায়ক তথা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিজভি আলম বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা দুটি দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করার লক্ষ্যে আপ্রাণ কাজ করে যাচ্ছেন৷ তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার জন্য ভারত তথা ত্রিপুরাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান৷ এছাড়া, সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের বিশিষ্ট গীতিকার সুবিমল ভট্টাচার্য প্রমুখ৷ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন আগরতলাস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রথম সচিব মহ, মণিরুজ্জামান৷ এর আগে অনুষ্ঠানের সভাপতি সহকারী হাইকমিশনার মহ, শাখাওয়াত হুসেন রাজ্যপালের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন৷ প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানের সাংসৃকতিক পর্বে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের খ্যাতনামা শিল্পী আব্দুল জববারসহ অন্যান্য বিশিষ্ট শিল্পীগণ সঙ্গীত পরিবেশন করেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *