অপরূপা ভ্যারাইটিজ’র ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেই দায়িত্ব খালাস, রাজ্যের বেশীর ভাগ বেকারীর বিষাক্ত পাউরুটি কেক তিলে তিলে মারছে মানুষকে,দপ্তর নির্বিকার

Bakeryনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ মার্চ৷৷ মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যাকেটজাত দ্রব্যে ছেঁয়ে গেছে রাজ্যে৷ অবশেষে জেগে উঠেছে সরকার৷ এক প্রেস বিবৃতিতে জানা গেছে, রাজ্য সরকারের লিগ্যাল মেট্রোলজি দপ্তরের তরফ থেকে দায়ের করা একটি মামলা পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার প্রথম শ্রেণীর বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা আখাউড়া রোডস্থিত অপরূপা ভ্যারাইটিজ নামক বিপণীর দুই অংশীদার প্রবীর পাল এবং রতন পালকে মাথাপিছু নয় হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা করেন৷ বিক্রির জন্য মজুত করা পাউরুটির প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ মুদ্রিত না থাকায় এই জরিমানা করা হয়৷
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লিগ্যাল মেট্রোলজি দপ্তরের আধিকারিকরা ২০১৫ সালের ১১ মে অপরূপা ভ্যারাইটিজ বিপণীতে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বিক্রির জন্য মজুত করা এই ধরনের পাউরুটির প্যাকেটের সন্ধান পান এবং তা বাজেয়াপ্ত করেন৷ উৎপাদনের তারিখ মুদ্রিত না থাকায় এই ধরনের প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রির জন্য মজুত করে প্যাকেটজাত পণ্য সংক্রান্ত নিয়মাবলী ভঙ্গ করা ঐ বিপণীর দুই অংশীদারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে দপ্তর৷ এই মামলায় ঐ বিপণীর দুই অংশীদারকে আর্থিক জরিমানা করা হয়৷
তবে, আশ্চর্য্যের বিষয় হল সারা রাজ্যে বহু এমন দোকান কিংবা বিপণী রয়েছে যেখানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে৷ বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সামগ্রী ছেঁয়ে গেছে৷ বহুবার এনিয়ে অভিযোগ উঠলেও খাদ্য দপ্তরের তরফে কোন হেলদোল লক্ষ্য করা যায়না৷ সম্প্রতি আগরতলায় এক দোকান থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি মিলেছে৷ দোকান মালিককে পাউরুটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এবিষয়ে তার কোন ভূমিকা নেই৷ পাউরুটি প্রস্তুতকারক মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বাজারজাত করছে৷ ফলে, এই ধরনের নিম্নমানের পণ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে৷ ঐ দোকান থেকে যে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটিটি বিক্রি হয়েছে সেটির প্রস্তুতকারক সংস্থাও অপরূপা ভ্যারাইটিজ৷ মামলা সত্বেও বাজারজাত পাউরুটির প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ মুদ্রিত করার কোন উদ্যোগ নেয়নি অপরূপা ভ্যারাইটিজ, যা আবারও প্রমাণিত৷
তবে, সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হল এধরনের পাউরুটি খেয়ে মানুষের তিলে তিলে ক্ষতি হচ্ছে৷ চিকিৎসকদের মতে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি বা অন্য কোন খাদ্য সামগ্রী খেলে মানব দেহে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়৷ তবে, সঙ্গে সঙ্গে তা ধরা পড়ে যা৷ অভিযোগ, শহর আগরতলা এমনকি সারা রাজ্যে বহু এমন বেকারী রয়েছে, যেখান এধরনের বিষাক্ত খাদ্য সামগ্রী বাজারজাত হচ্ছে৷ কিন্তু সেদিকে কোন নজর নেই খাদ্য দপ্তরের৷ এমনকি মেট্রোলজি দপ্তর যদি সারা রাজ্যে এধরনের অভিযান শুরু করে তাহলে বহু বেকারীতে এধরনের বিষাক্ত কাজকর্ম ধরা পড়বে৷ সচেতন গ্রাহকদের মতে, রাজ্য সরকার এই বিষাক্ত খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুতকারক বেকারীগুলির বিরুদ্ধে শীঘ্রই জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ৷ কেবল মাত্র একটি মামলা করে অপরূপা ভ্যারাইটিজকে জরিমানা করলে চলবে৷ কারণ জরিমানার পরও তাদের সম্ভিত ফিরে নি সেকথাও প্রমাণিত৷ ফলে বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রীর বিরুদ্ধে লাগাতর অভিযান এবং নজরদারী বিশেষভাবে জরুরী হয়ে পড়েছে৷