নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জুন৷৷ বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়মিত করল ত্রিপুরা সরকার৷ আজ মন্ত্রিসভা ৯৩৮ জন বিজ্ঞান শিক্ষকের নিয়মিতকরণে অনুমোদন দিয়েছে৷ ফলে, ২০১৭ সাল থেকে এখন সমস্ত বকেয়া তাঁদের মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার৷ শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথের দাবি, আইনি জটিলতার কারণে ওই সকল বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়মিত করা যাচ্ছিল না৷ এখন উচ্চ আদালতের রায়ে তাঁদের নিয়মিত করার পথ সহজ হয়েছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, বামফ্রন্ট সরকার অস্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগে স্থায়ী পদ সৃষ্টি করেনি৷ তাই ওই সকল বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়মিতকরণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল৷
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ-বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালের ৬ আগস্ট বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগে ১,৪৫০টি পদ সৃষ্টি করেছিল তদানীন্তন সরকার৷ ওই বছরের ২৫ অগাস্ট ত্রিপুরা সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল৷ তাতে ১,০০০ জন বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল৷ ২০১২ সালের ২ জুলাই থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁরা স্থির বেতনে শিক্ষক পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন৷ কিন্তু ২০১৭ সালে তাঁদের চাকরির পাঁচ বছর হলেও বামফ্রন্ট সরকার কাউকেই নিয়মিত করেনি৷ তিনি জানান, স্থির বেতনে নিয়োগে কোনও নিয়মিত পদ রাখেনি বামফ্রন্ট সরকার৷ ফলে, আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁদের নিয়মিত করেনি পূর্বতন সরকার৷
এতে বিজ্ঞান শিক্ষকরা ত্রিপুরা হাইকোর্টে মামলা করেন৷ ওই মামলায় প্রধান বিচারপতি অকিল কুরেশি গত ১৮ ডিসেম্বর রায় দেন, ছয় মাসের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষকদের সমস্ত সুযোগ সুবিধা মিটিয়ে দিয়ে নিয়মিত করতে হবে৷ এক্ষেত্রে ওই সকল বিজ্ঞান শিক্ষকরা ২ জুলাই ২০১৭ থেকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন৷ সে মোতাবেক আজ মন্ত্রিসভা ওই সকল বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়মিতকরণে অনুমোদন দিয়েছে৷ তাঁর কথায়, ৯৩৮ জন বিজ্ঞান শিক্ষকের মধ্যে এখনই নিয়মিত হচ্ছেন ৯২৬ জন৷ কারণ, শিক্ষার অধিকার আইন মেনে তাঁদের ডিএলএড/বিএড ডিগ্রি রয়েছে৷ কিন্তু ১২ জন বিজ্ঞান শিক্ষকের ওই ডিগ্রি নেই৷ তাই ওই ডিগ্রি পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা স্থির বেতনেই চাকরি করবেন৷ ডিগ্রি জমা দিলে তাঁদেরকেও নিয়মিত করা হবে এবং সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেবে ত্রিপুরা সরকার৷
এদিন তিনি জানান, ওই ৯৩৮ জন বিজ্ঞান শিক্ষকের বকেয়া সহ সমস্ত আর্থিক সুবিধা প্রদানে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে ৪৯ কোটি ৫৯ লক্ষ ৯ হাজার ৩৪৪ টাকা খরচ হবে৷ আজ তিনি দাবি করেন, বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের নিয়মিত করা৷ তাই, উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ত্রিপুরা সরকার সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানায়নি৷

