আগরতলা, ১৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর সম্পর্ককে আরও গাঢ় এবং মজবুত করার উদ্দেশ্যে বিএসএফ সাইকেল রেলি শুরু করেছে৷ টানা ৪০ দিনে ২,২৮৭ কিমি রাস্তা অতিক্রম করে বিএসএফ-এর ১৭ জন সাইক্লিস্ট বৃহস্পতিবার আগরতলা স্থলবন্দরে পৌঁছেছেন৷ সেখানে বিজিবি-কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ বিজিবি-র কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আব্দুল হাসনাত মহম্মদ শাহরিয়ার ইকবাল ভারতের ওই উদ্যোগ এবং আতিথেয়তায় আপ্লুত৷ তিনি দাবি করেন, এভাবেই দুই দেশের সমন্বয় বাড়বে৷ দুই দেশের মানুষ আরও কাছে আসবেন৷ তাঁর কথায়, আজকের অনুষ্ঠানে এসে মনে হচ্ছে নিজের বাড়িতে এসেছি৷
গত ১০ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পানিটর সীমান্তে জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন বিএসএফ-এর সাইক্লিস্টরা৷ ১৭ মার্চ তাঁদের ওই সফরের সমাপ্তি হবে৷ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মজয়ন্তীতে মিজোরামের সিলকোর বিওপি দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন৷
আজ তাঁরা আগরতলা স্থলবন্দরে পৌছেছেন৷ রেলি চলাকালীন তাঁরা ত্রিপুরা সহ অসম, মেঘালয়, মিজোরাম সীমান্ত এলাকা সফর করবেন৷ এ-বিষয়ে বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আইজি বলেন, সাইকেল রেলি চলাকালীন সাইক্লিস্টরা বিজিবি, বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থানরত নাগরিক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন৷ সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং সমন্বয়ের বার্তা পৌছে দিয়েছেন৷ তাঁর দাবি, এ-ধরনের রেলি বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে৷
এদিন বিজিবি-র কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আব্দুল হাসনাত মহম্মদ শাহরিয়ার ইকবাল বলেন, খুবই ভালো উদ্যোগ নিয়েছে বিএসএফ৷ মৈত্রী সাইকেল রেলি উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত মনমুগ্দকর ছিল৷ বাংলাদেশের জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই রেলির আয়োজন করায় বিএসএফ-কে অশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি৷ তাঁর কথায়, সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ এবং বিজিবি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে৷ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে৷ শুধু তা-ই নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যেও সম্পর্ক আরও নিবিঢ় ও শক্তিশালী হবে৷ তাঁর মতে, এ-ধরনের রেলি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলতে যথেষ্ট অবদান রাখবে৷
আগরতলা স্থলবন্দরে আজকের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার সহ বিএসএফ ও বিজিবি-র পদস্থ আধিকারিকরা৷ বিএসএফ-এর ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, আজ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ত্রিপুরার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা প্রদক্ষিণ করবে ওই রেলি৷ ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই রেলি মিজোরামে গিয়ে শেষ হবে৷

