নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ ফেব্রুয়ারি৷৷ রাজ্যে করোনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারী গাইডলাইন মেনে আর্থিক সহায়তার প্রথম কিস্তির টাকা দ্রত প্রদানের জন্য রাজস্ব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ এক্ষেত্রে জেলা শাসকদের যথাযথ ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টির উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন৷ আজ সচিবালয়ের ২নং সভাকক্ষে আয়োজিত রাজস্ব দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের দ’ষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেন৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণকে নিশ্চিত পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে রাজস্ব দপ্তর জনকল্যাণে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সেইগুলি মানুষের জীবনজীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ জনকল্যাণে সেইসব গৃহীত পরিকল্পনাগুলিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসতে রাজ্যের ২২২টি তহশীল অফিসগুলির পাশাপাশি মহকুমা শাসকের অফিস সহ জনবহুল জায়গায় বাংলা ও ককবরক ভাষায় ফ্লেক্স-এর মাধ্যমে প্রচার প্রসারের উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এই পরিকল্পনাগুলির সঠিক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি করার জন্যও তিনি দপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বনাধিকার আইনে জমির পাট্টা প্রাপকদের জমির অফিসিয়াল ডাটা এন্ট্রি রেকর্ড আপডেট সহ জমি চিহ্ণিতকরণের কাজ দ্রত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারীরা যাতে সরকারী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সুুযোগ সুুবিধা পেতে পারেন সেই জন্য দপ্তরকে সচেষ্ট হতে পরামর্শ দেন৷ তিনি বলেন, ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া, লংতরাইভ্যালি এবং করবুক মহকুমার ২৬টি রেভেনিউ মৌজায় সমীক্ষার কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে৷ বর্তমানে রাজ্যে ব্রু শরনার্থীদের পুর্নবাসনের বিষয়টি দ্রত কার্যকর করার বিষয়ে দপ্তরকে আরও সচেষ্ট হতে তিনি পরামর্শ দেন৷ এক্ষেত্রে দপ্তরের আধিকারিকদের যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ প্রক্রিয়া অনলাইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে মানুষ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে হয়রানির শিকার না হন৷
পর্যালোচনা সভায় রাজস্ব দপ্তরের সচিব তনুশ্রী দেববর্মা দপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচিসমূহ এবং আগামীদিনের কর্মপরিকল্পনা সর্ম্পকে আলোচনা করেন৷ তিনি জানান, রাজ্যে বনাধিকার আইনে পাট্টা প্রাপ্ত জমির ডাটা এন্ট্রির কাজ ২০২০ সালের সেপ্ঢেম্বর মাস থেকে শুরু হয়৷ রাজ্যের ৮ জেলাতেই এর কাজ শুরু হয়েছে৷ রাজ্যে বনাধিকার আইনে পা-া প্রাপক মোট ১,৩০,৯০৩ জন সুুবিধাভোগীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৯,৬৯০ জনের জমির রেকর্ড ইতিমধ্যে ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে আপডেট করা হয়েছে এবং বাকিগুলির কাজ চলছে৷ তিনি বলেন, অবৈধভাবে দখল করা সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া জারি রয়েছে৷
সভায় রাজস্ব দপ্তরের সচিব আরও জানান ১৪৫ জন বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাদের বনাধিকার আইনে পাট্টা প্রাপক জমির সার্ভে সহ মানচিত্র আপডেটিং এর কাজ করবে৷ তহশীল অফিসগুলিতে কম্পিউটার সহ ইন্টারনেট সংযোগ সুুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ তিনি আরও জানান, রাজ্যে সমস্ত জেলায় বি এ ডি পি’র বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে৷ কর্মপরিকল্পনাগুলি বি এ ডি পি অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে আপলোড করা হয়েছে৷ রাজ্যের নাগরিকদের নিশ্চিত পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে ত্রিপুরা গ্যারান্টিড সার্ভিস টু সিটিজেনস অ্যাক্ট, ২০২০ তৈরি করা হয়েছে৷ এখন পর্যন্ত ৯৭টি পরিষেবা এই অ্যাক্টের আওতায় আনা হয়েছে৷ চা-পর্যটন শিল্পের প্রসারে ত্রিপুরা ল্যাণ্ড রেভেনিউ এণ্ড ল্যাণ্ড রিফর্মস অ্যাক্ট ২০২০ সংশোধন করা হয়েছে৷ তিনি জানান, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এখন পর্যন্ত ১৮৯টি দপ্তর/এন জি ও এবং ৩১০ জন ব্যক্তির মধ্যে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে৷
রাজস্ব দপ্তরের সচিব জানান, প্রাক’তিক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি হিসাবে ৪০টি মোটর চালিত বোট এবং ৯টি লাইফ ডিটেক্টর কেনা হয়েছে৷ সিপাহীজলা জেলায় ’আপদা মিত্র’ প্রকল্প সফলভাবে রূপায়িত হয়েছে৷ এন ডি এম-এর ৩টি কেন্দ্রীয় সহায়ক প্রকল্প রাজ্যে রূপায়িত হচ্ছে৷ তিনি জানান, রেভিনিউ কোর্ট কেইস মনিটরিং সিস্টেম নামে একটি পোর্টাল তৈরি করেছে রাজস্ব দপ্তর, যেখানে জনসাধারণ সরাসরি বিভিন্ন রেভিনিউ কোর্ট কেইসের আবেদন করতে পারবেন৷ তাছাড়া দপ্তরের নতুন উদ্যোগ এবং প্রস্তাবিত কর্ম-পরিকল্পনা সম্পর্কে ও সভায় আলোচনা করেন রাজস্ব দপ্তরের সচিব৷
পর্যালোচনা সভায় রাজস্ব দপ্তরের মন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা, মুখ্যসচিব মনোজ কুমার, অর্থ দপ্তরের প্রধান সচিব জে কে সিনহা, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায় সহ রাজস্ব দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন৷

