পৃথক স্থানে দুই সুকল পড়ুয়াসহ চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আমবাসা/আগরতলা/চড়িলাম/ তেলিয়ামুড়া, ১৭ ফেব্রুয়ারি৷৷ দুই সুকল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীসহ চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পৃথক স্থানে৷ চবিবশ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে৷


সংবাদে প্রকাশ, সরস্বতী পুজোর সন্ধ্যায় একা বাড়ি থেকে পুজোতে যেতে না দেয়ায় রাগে-অভিমানে আত্মঘাতী হয়েছে একাদশ শ্রেণির ছত্রী৷ ছাত্রীটির নাম সুস্মিতা দেব৷ ঘটনাটি ঘটেছে ধলাই জেলার কুলাইয়ের সুধারাম পাড়ায়৷ জানা যায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর বাড়ি কুমার ঘাটে৷ সে ছোটবেলা থেকেই মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত৷সরস্বতী পূজার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ সে একা সুকলে সরস্বতী পূজায় যেতে চেয়েছিল৷ মামা তাতে আপত্তি জানান তাকে রাতে একা সুকলে যেতে দেওয়া হয়নি৷তাতে ক্ষুব্দ হয়ে রাগে-অভিমানে নিজে ঘড়ি ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে অভিমানিনী ছাত্রী সুস্মিতা দেব৷ ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷

এদিকে, অভাব-অনটনে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল এক রিকশাচালক৷ ঘটনা রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ণ শ্রীনগর থানা দিন আনন্দ নগরের কালী তলা এলাকায়৷আর্থিক অনটনে দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে এক রিকশাচালক৷ আত্মঘাতী রিক্সা চালকের নাম প্রমোদ নন্দী৷ বাড়ি শ্রীনগর থানা এলাকার আনন্দ নগরের কালী টিলা এলাকায়৷ বুধবার সকালে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে৷মৃতের স্ত্রী পার্বতী নন্দী জানান পরিবারে বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক অনটন চলছিল৷ স্বামী স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে ওঠে৷ এর মধ্যেই রিস্কাটি বিকল হয়ে পড়ে৷ সারাই করার মত টাকা পয়সা ছিল না৷ তাতে রীতিমতন দিশেহারা হয়ে যায় রিস্কা চালক প্রমোদ নন্দী৷ অন্যান্য দিনের মতোই বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক কার্য্য ঘরে ফিরে প্রমোদ নন্দী৷ এরই মধ্যে ফাঁসিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়৷ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার জনমনে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে৷ ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং সেখান থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে৷ অভাব অনটনের তাড়নায় রিকশাচালক প্রমোদ মন্দির মৃত্যুতে পরিবারটি আরো অসহায় হয়ে পড়েছে৷


এদিকে, বুধবার বিকালে প্রণয় সংক্রান্ত কারণে আত্মহত্যা করল এক দ্বাদশ পড়ুয়া ছাত্র৷ জানা যায় বিশালগড় বেসরকারি একটু সুকলের ছাত্র রানা চৌধুরী৷ বয়স আঠারো৷বাড়ি চড়িলাম বিধানসভা এলাকার আমতলি৷পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে বুধবার বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়ার পর নিজ বসত ঘরে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করল রানা চৌধুরী৷ তাছাড়া তার পিতা মাতা এ রানাকে দত্তক নিয়েছিল৷ কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস সেই দত্তকপুত্র কে হারিয়ে মা ও বাবা দুজনের আর্তনাদ চিৎকারে পুরো আমতলীর আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে৷ তাছাড়া আরও জানা গেছে কোন মেয়ের সাথে তার প্রণয় সংক্রান্ত কারনেই সে আত্মহত্যা করেছে৷ বুধবার বিকালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মা দেখতে পায়৷ সঙ্গে সঙ্গে তার কান্নায় এলাকার মানুষ জড়ো হয়৷খবর দেওয়া হয় বিশালগড় থানায়৷ বিশালগড় থানা থেকে পুলিশ এসে জ্বলন্ত অবস্থায় রানাকে নামিয়ে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ বৃহস্পতিবার মৃত রানা চৌধুরির দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর৷


অন্যদিকে, তেলিয়ামুড়া থানা এলাকার তুইসিন্দ্রাই বাজার সংলগ্ণ এলাকা থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷মৃতদেহ উদ্ধারের সংবাদে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়৷ তেলিয়ামুড়ার তুইসিন্দ্রাই বাজার সংলগ্ণ আসাম আগরতলা জাতীয় সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত জলাশয় থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷ মৃত ব্যক্তির নাম প্রদীপ দাস৷ বাড়ি হাওয়াই বাড়ি এলাকায়৷ বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণ কারীরা রাস্তার পাশে পরিত্যেক্ত জলাশয় মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তার খবর দেন৷খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এবং মৃতের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে৷খবর পাঠানো হয় তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশকে৷খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ এসে জলাশয় থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তেলিয়ামুড়া হাসপাতালে পাঠায়৷ স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন মৃত প্রদীপ দাস আকণ্ঠ নেশা পান করত৷ প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে নেশাগ্রস্থ এই রাস্তার পাশে পরিতক্ত জলাশয়ে পরে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷তবে এই মৃত্যুর পেছনে অন্যতম কারণ আত্মগোপন করে রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷