করোনা : সাদামাটা দুর্গোৎসব, রামকৃষ্ণ মিশনে হবে না ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা

আগরতলা, ১৬ অক্টোবর (হি.স.) ৷৷ করোনা-র প্রকোপে এ-বছর সাদামাটাভাবেই উদযাপিত হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পূজা৷ সরকারি বিধিনিষেধ মেনে এ-বছর রামকৃষ্ণ মিশনে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজার আয়োজন হবে না৷ শুধু তা-ই নয়, অঞ্জলি নেওয়ার ক্ষেত্রে ভক্তদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে৷ ভোগের অন্ন প্রসাদ (খিচুড়ি) বিতরণেরও কোনও ব্যবস্থা থাকবে না৷ প্রত্যেককেই অঞ্জলি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শুকনো প্রসাদ দেওয়া হবে৷


ধলেশ্বর রামকৃষ্ণ মিশনের মঠ সম্পাদক ইন্দ্রাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, করোনা-র প্রকোপেও মায়ের আরাধনার আয়োজন করা হবে৷ তবে, সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনেই দুর্গা পূজা করা হবে৷ তিনি বলেন, অঞ্জলি নেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এ-ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাক্স টাঙানো হবে৷ তাতে, সমস্ত মন্ত্র লেখা থাকবে৷ ভক্তরা ওই মন্ত্র উচ্চারণ করে অঞ্জলি নেবেন৷ এ-ক্ষেত্রে অবশ্যই পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ এমন-কি পুরোহিতের সাথে অন্তত ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা হবে৷


তাঁর কথায়, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে এ-বছর কুমারী পূজা স্থগিত রাখা হয়েছে৷ কারণ, ১০ বছরের কম বয়সি শিশুদের পূজায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ তিনি বলেন, নববইয়ের দশকে আগরতলা রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা শুরু হয়েছিল৷ এ-বছর করোনা-র কারণে স্থাগিত রাখতে হচ্ছে৷ সাথে যোগ করেন, রামকৃষ্ণ মিশনের দেশের অন্যান্য শাখায়ও কুমারী পূজা এ-বছর বন্ধ রাখা হয়েছে৷


এদিকে, মঠ প্রাঙ্গণে দুর্গা পূজার সময় বেশ কয়েকবার স্যানিটাইজ করার বন্দোবস্ত করা হয়েছে৷ তাছাড়া, পূজায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের মুখে আবরণ রাখা এবং হাত স্যানিটাইজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, বলেন তিনি৷ তাঁর দাবি, চারটি লাইনে ভক্তরা পূজাস্থলে যাবেন৷ এ-ক্ষেত্রে বাঁশের ব্যারিকেড দেওয়া থাকবে৷ পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে পূজা সেরে বেরিয়ে আসবেন ভক্তরা৷ প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়েও অল্প কয়েকজন অংশ নেবেন৷ তাছাড়া, সিঁদুর খেলার ব্যবস্থা কখনও করা হয় না, জানান তিনি৷