তিন দিনের শিশুমৃত্যু, থানায় এফআইআর, ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি দম্পতির

আগরতলা, ২৭ আগস্ট (হি.স.)৷৷ করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহে আঘাত পেয়ে তিন দিন বয়সি শিশু মৃত্যুর অভিযোগের দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পর মৃতের পরিবার বৃহস্পতিবার থানায় এফআইআর দাষের করেছে৷ চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীর বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ওই পরিবাব৷ শুধু তা-ই নয়, ত্রিপুরা সরকারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তাঁরা৷


মৃত শিশুর মা পাপিয়া পাল আজ নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় জিবি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীর বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ এনে এফআইআর করেছেন৷ এজাহারে তিনি লিখেছেন, গত ১৩ আগস্ট তাঁর পুত্র সন্তানের করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহে অসাবধানতাবসত তাকে আঘাত দিয়েছেন কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কর্মী৷ তাতে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্তানের মৃত্যু হয়৷ তিনি সন্তানের মৃত্যুর জন্য চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের গাফিলাতিকে দায়ী করে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন৷
এদিকে, আজ তিনি স্বাস্থ্য দফতরের প্রধানসচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং জিবি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারের কাছে লেখা চিঠিতে বিচার চেয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন৷ তিনি চিঠিতে লিখেছেন, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীরাই তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ী৷ তাঁর দাবি, ১০ আগস্ট আমি সম্পূর্ণ সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছিলাম৷ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা আমার সন্তানের কোভিড টেস্ট জরুরি বলে জানিয়েছিলেন৷ কিন্ত আমি আপত্তি করেছিলাম৷ আমার আপত্তি সত্ত্বেও সন্তানের করোনা পরীক্ষা করা হয়৷ তাতে স্বাস্থ্য কর্মীদের গাফিলতিতে আমার সন্তান আঘাত পায় এবং তার মৃত্যু হয়৷

তাঁর আরও অভিযোগ, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে তাঁকে কোনও নথি দেওয়া হয়নি৷ তিনি সন্তানের মৃত্যুর জন্য হাসপাতালের বাইরের বিশেষজ্ঞকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন৷ সাথে তিনি সন্তানের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন৷