নয়াদিল্লি, ২৯ জুন (হি. স.): পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে বেড়ে চলা উত্তেজনা প্রশমিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যেই ৩০ জুন, মঙ্গলবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায় ফের বৈঠকে বসবে দুই দেশ। ভারতের চুথুলে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শেষবার সামরিক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল ২২ জুন কোর কমান্ডার পর্যায়ে চিনের মাল্ডও – তে।সেবার মূল নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরিয়ে ২ মের আগের পর্যায় চিনকে যেতে বলেছিল ভারত। কিন্তু এখনো সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে সৈন্য সমাবেশ সরিয়ে নেয়নি লালফৌজ।
গত ১৫ জুন, সোমবার রাতে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় অতর্কিতে হামলা চালায় চিনা সেনা। শহীদ হন কুড়িজন ভারতীয় জওয়ান। পাল্টা প্রত্যাঘাতে ৪৩ জন চিনা সৈন্য নিকেশ হয়। এরপরই বিপুল সামরিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করে ভারত। ইতিমধ্যেই পূর্ব লাদাকে মোতায়েন করা হয়েছে সুখোই এম কে আই ৩০, মিরাজ ২০০০, জাগুয়ার, মিগ ২৯ যুদ্ধবিমান পাশাপাশি মূল নিয়ন্ত্রণরেখায় কর্তব্যরত ভারতীয় সেনা জওয়ানদের সুরক্ষায় আকাশে চক্কর কাটছে অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার। সেনা মোতায়ন এবং রসদ সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে চিনুক হেলিকপ্টার।
সূত্রের দাবি প্রায় ৪৫ হাজার সেনা সমাবেশ করেছে ভারত। আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও মোতায়েন করা হয়েছে। বোফোর্স কমানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হয়েছে জিপিএস লাগানো গোলা। যা ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।যে কোনও পর্যায় যুদ্ধ প্রস্তুতি এড়িয়ে চলতে চায় ভারত। বৈঠক এবং আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে রাজি সাউথ ব্লক। কিন্তু বারবার চিনের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
সম্প্রতি রাশিয়ায় গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সামরিক চুক্তিগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়িত করার জন্য মস্কোকে চাপ দেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করে ভারত। অন্যদিকে রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন ভারত চোখে চোখ রেখে প্রত্যাঘাত করতে সক্ষম।মঙ্গলবারের বৈঠকে ভারতের তরফ থেকে নেতৃত্ব করবেন ১৪ নম্বর কোরের কমান্ডার লেফটেনেন্ট জেনারেল হারিন্দর সিংহ। চিনকে নেতৃত্ব দেবেন বৈঠকে মেজর জেনারেল লিন লিউ। এর আগের দুইটি বৈঠক হয়েছিল চিনের মাল্ডওতে।

