নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫মে৷৷ ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিশা প্রকল্পের সার্থক রূপায়ণের ফলেই বুনিয়াদি স্তরে বার্ষিক পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের হার বেড়েছে৷ শুক্রবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে জোর গলায় এই দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ এদিন তিনি ২০১৭ সালে শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের সাফল্য এবং নতুন দিশা প্রকল্প চালু হওয়ার পর এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন৷
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট সার্ভে অনুসারে দেখা গেছে, রাজ্যের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠরত পড়ুয়াদের মধ্যে অঙ্কে ৬২ শতাংশ, বিজ্ঞানে ৫৯ শতাংশ, এসএসটি-তে ৬২ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ওই শ্রেণিতে পড়ার উপযুক্ত ছিল না৷ অনুরূপভাবে প্রথম এডুকেশন ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অ্যানুয়েল স্টেটাস এডুকেশন রিপোর্ট অনুসারে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রাজ্যের সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী যোগ, বিয়োগ, ভাগ করতে পারত না৷ এমন-কি পাঠ্যবইও সঠিকভাবে পড়তে পারত না তারা, জানান তিনি৷
তাঁর দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চারদিন সারা রাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সমীক্ষা চালানো হয়৷ ওই সমীক্ষায় উঠে আসে, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৬৯ শতাংশ এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪৩ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ওই শ্রেণিতে পড়ার উপযোগী নয়৷ তিনি বলেন, ওই সমীক্ষার ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীদের গুণগত শিক্ষায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন দিশা প্রকল্প চালু করা হয়েছে৷ শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষা দফতর বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে৷ শুধু তা-ই নয়, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, সারা ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয়ভাবে একই রকম প্রশ্ণপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ সে অনুসারে সারা ত্রিপুরায় বিদ্যালয়গুলি লকডাউনের আগেই বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে৷
এ বছর ছাত্রছাত্রীদের বার্ষিক পরীক্ষায় সাফল্যের হার তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছাত্রছাত্রী ১ লক্ষ ৫০ হাজার ১৬৮ জন৷ এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেছিল৷ পাশ করেছে ৮৮ শতাংশ৷ অনুরূপভাবে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৭১৷ এর মধ্যে পাশের হার ৯৮ শতাংশ৷ শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, ত্রিপুরা সরকার গুণগত শিক্ষার সাথে কখনও আপস করবে না৷ তাই বার্ষিক পরীক্ষায় যারা অনুপস্থিত ছিল বা বিভিন্ন বিষয়ে গড়ে ২৪ নম্বরের কম পেয়েছে তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে৷
ছাত্রছাত্রীদের এ বছরের এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ নতুন দিশা প্রকল্পের অন্তর্গত সাধনা-প্রেরণা কর্মসূচির সার্থক বাস্তবায়নে তিনি শিক্ষক সমাজকে অভিনন্দিত করেছেন৷

