নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি৷৷ চাকরির মেয়াদের সময়সীমা যতই সমাপ্তের দিকে এগিয়ে চলেছে ততই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত চাকরিচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষকদের৷ মঙ্গলবার তাঁরা পাঁচ দফা দাবি আদায়ে শিক্ষা অধিকর্তার কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেছেন৷ সাথে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ১৫ কিংবা ১৬ মার্চ থেকে গণ-অবস্থানে বসবেন৷ স্বাভাবিকভাবেই, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷
ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়ে ১০৩২৩ শিক্ষকে চাকরী বাতিল হয়েছে৷ সুপ্রিমকোর্টও ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে৷ তবে ৩১ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত তাঁদের অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সবর্োচ্চ আদালত৷ ওই সময়সীমা এখন সমাপ্তির পথে৷ এখন পর্যন্ত তাঁদের জীবন-জীবিকার প্রশ্ণে স্থায়ী কোনও সমাধানসূত্র খুঁজে বের করেনি ত্রিপুরা সরকার৷ তাই তাঁরা ঘন ঘন আন্দোলনমুখী হচ্ছেন৷
আজ তাঁরা ৫ দফা দাবি আদায়ে শিক্ষা অধিকর্তার কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেছেন৷ এ-বিষয়ে ১০৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষক সংগঠনের নেতা বিমল সাহা বলেন, সরকারের ভুলে আজ তাঁদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে৷ তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের ভুলের কারণেই তাঁরা ক্ষমতা হারিয়েছেন৷ তাঁর আরও দাবি, ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তনে ১০৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে৷ তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তন হলে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের আইনিপথে ব্যবস্থা করা হবে, এমন প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করেছিলাম আমরা৷ কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না, আক্ষেপ করে বলেন তিনি৷
এদিন তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তাঁদের চাকরী সুনিশ্চিত না করা হলে ১৫ কিংবা ১৬ মার্চ গণ-অবস্থানে বসবেন ১০৩২৩ জন শিক্ষক৷ তাঁর দাবি, অ্যাডহক শিক্ষকদের চাকরি থেকে অব্যাহতির চরমপত্র বাতিল করতে হবে৷ শুধু তা-ই নয়, কীসের ভিত্তিতে অ্যাডহক শিক্ষকদের বাছাই করা হয়েছে তাঁর জবাব দিতে হবে৷

